খিলগাঁওয়ে ওহাব হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তিনজন রিমান্ডে
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের আবদুল ওহাব (৪২) হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন তিন খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই তিন আসামিকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পারভেজ ওরফে ডাবল পারভেজ (২৩), নিজাম হোসেন (২৩) ও হৃদয় ওরফে ভাগনা হৃদয় (২০)।
১০ মার্চ রাত ১০টার দিকে নিহত ব্যবসায়ী আবদুল ওহাবের স্ত্রী সুইটি বেগম জানতে পারেন, তাঁর স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় খিলগাঁওয়ের ঝিলপাড়ে পড়ে আছেন। সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন ওহাবকে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় ওহাবকে নিয়ে যাওয়া হয় পান্থপথের ইউনি স্পেশালাইজড হাসপাতালে। ১১ মার্চ সকাল ৮টায় এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ওহাবের স্ত্রী সুইটি বেগম বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় ওই দিনই মামলা করেন।
সুইটি বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামীকে কী কারণে খুন করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে তাঁর স্বামী পুলিশকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের তথ্য দিতেন। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে দাবি করেন সুইটি।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আজ বুধবার আদালতে তুলে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে খিলগাঁও থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরসেল তালুকদার আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছেন, নিহত আবদুল ওহাব মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য দিতেন। পুলিশকে সহযোগিতার কারণে আসামিরা তাঁকে ইট ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। ওই আঘাতেই ওহাব মারা যান।
আদালতকে পুলিশ জানিয়েছে, ওহাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা খিলগাঁওসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল। প্রাথমিক তদন্তে এই তিন আসামি ওহাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ বলছে, মামলার প্রধান আসামি পারভেজের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় দুটি মাদক মামলা আছে। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে এই মামলা করে পুলিশ। ২ নম্বর আসামি নিজাম হোসেনের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় পাঁচটি মামলা আছে। আর ৩ নম্বর আসামি হৃদয়ের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় তিনটি মামলা আছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খিলগাঁও থানার এসআই আরসেল তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল ওহাব পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতেন। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে ছিলেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ওহাব খুন হতে পারেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।