ফেসবুক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে অপহরণ, অতঃপর...

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা শেখ মো. জসিম উদ্দিন (৪৩)। তিনি চাকরি করেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকার একটি মশার কয়েল কারখানায়। কয়েক দিনের ছুটিতে সম্প্রতি তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে গত রোববার জসিম উদ্দিন কর্মস্থল হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে পূর্বপরিচিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বন্ধু জিল্লুর রহমান বিপ্লব তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী যেতে বলেন। প্রথমে আপত্তি জানালেও বিপ্লবের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি হবিগঞ্জে না গিয়ে ঢাকা হয়ে ওই দিন রাতেই রাজশাহীর পথে রওনা হন।
গত সোমবার সকালে জসিম রাজশাহীর ভদ্রায় পৌঁছালে বিপ্লব তাঁকে শহরে তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাসায় নিয়ে যান। পরে সেই বাসার একটি কক্ষে জসিমকে আটক করে কয়েকজন অপরিচিত যুবক তাঁকে মারপিট করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে খুন করে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি মোবাইলে জসিম তাঁর পরিবারকে জানালে দুই দফায় বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়।
এ দিকে ওই দিনই জসিমের ছোট ভাই জাহিদুর রহমান বাদী হয়ে অপহরণ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দিলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পুলিশ সুপার রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম তাঁকে উদ্ধারের দায়িত্ব নেন।
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে রাতেই রাজশাহী পৌঁছে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা নেন তাঁরা। ফের বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল আসামি বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তিতে একটি ফাঁকা বাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত শেখ জসিমকে উদ্ধার করা হয়। পরে অপহরণের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং মুক্তিপণের টাকাও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন রাজশাহীর শাহমখদুম থানা এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বিপ্লব (৩৩), তাঁর স্ত্রী কাকলী বেগম (৩০) ও রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম শরিফ (২২)।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এজাজ শফী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় উন্নত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অপরাধীদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার ও মুক্তিপণের টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের রাজবাড়ীর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়।