খোয়াই বাঁচাতে অভিযান, উচ্ছেদ ৮৪ স্থাপনা

খোয়াই বাঁধের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। হবিগঞ্জ, ৩০ মার্চ। ছবি: প্রথম আলো
খোয়াই বাঁধের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। হবিগঞ্জ, ৩০ মার্চ। ছবি: প্রথম আলো

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। শনিবার অভিযানের প্রথম দিনে ৮৪টি ছোট-বড় স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ খোয়াই নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে বেশ কয়েক বছরে। এ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের জন্য নানা সময় দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা। পাশাপাশি জেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভাতেও এ উচ্ছেদের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অবৈধ স্থাপনার পরিসংখ্যান তৈরি করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শনিবার বেলা একটা থেকে শহরের খোয়াই সেতুর চৌধুরী বাজার পয়েন্ট থেকে শহরের কামরাপুর সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪০০ গজ এলাকাজুড়ে এই অভিযান চালায়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। এতে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী হাকিম মো. ইয়াছিন আরাফাত রানা ও মো. আনিছুর রহমান খান।

এ অভিযান চলাকালে স্থাপনা উচ্ছেদের দৃশ্য দেখতে অসংখ্য মানুষ জড়ো হন খোয়াই পাড়ে। এ সময় চৌধুরী বাজার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া এ অভিযানের আগে উচ্ছেদকৃত স্থাপনার বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

চৌধুরী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এই দখল নিয়ে কোনো ভূমিকা না রাখায় নদীর দুই তীরে কয়েক বছরে অসংখ্য স্থাপনা গড়ে ওঠে। অনেকে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে জমিও বিক্রি করেন।

একই এলাকার ব্যবসায়ী বজলুর রহমান বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে এ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এসব অবৈধ স্থাপনার জন্য। প্রশাসন এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় এলাকাবাসী খুশি। তবে পুনরায় যেন একই স্থাপনা গড়ে না ওঠে সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এম এল সৈকত প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ দখলদের কারণে বাঁধের সংস্কারকাজও করা যাচ্ছিল না। তাদের নোটিশ করা হয় স্থাপনা সরানোর জন্য। সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। তাই শনিবার ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ৮৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তিনি জানান, এই অভিযান চলমান থাকবে। পুরো খোয়াই নদীকে দখল মুক্ত করা হবে।