ছুটিতে বাড়ি এসে ছিনতাই, পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি সড়কে মুরগিবাহী ট্রাকে ছিনতাই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফুল ইসলাম নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে জনতা। পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আরিফুর ইসলাম ডিএমপির গুলশান-২ ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগে কর্মরত। বাড়ি উপজেলার ফুলতলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে। ছুটিতে বাড়ি এসে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটান। পরে তাঁর তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে আবু সাঈদ নামের আরেক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়িও একই গ্রামে।
ছিনতাইয়ের ওই ঘটনায় মুরগিবাহী ট্রাকের চালক সজীব শেখ বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে শেরপুর থানায় মামলা করেন। এতে পুলিশ কনস্টেবল আরিফুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা এলাকা থেকে ৬০০টি লাল লেয়ার মুরগি ট্রাকে করে ১৯ মার্চ সিরাজগঞ্জে আনা হয়। এরপর মুরগিগুলো সিরাজগঞ্জ শহর, সলঙ্গা, নিমগাছী ও রায়গঞ্জের শাইলাগাড়ি বাজার এলাকায় ১ লাখ ১১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রি শেষে একই দিন বেলা সাড়ে তিনটায় শেরপুরে আসার পথে আম্বইল এলাকায় সড়কের ওপর একটি মোটরসাইকেল রেখে তিন ব্যক্তি ট্রাকের গতিরোধ করেন। তাঁদের মধ্যে আরিফুল নিজেকে শেরপুর থানার কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের পরিচয়পত্রও দেখান।
মামলার বাদী সজীব শেখ বলেন, তিনি ছাড়াও ফেরার পথে ট্রাকে মুরগি বিক্রির ব্যবস্থাপক রোমান হোসেন ও তাঁর সহকারী শিপন সরদার ছিলেন। সড়কে ট্রাকের গতিরোধ করার পর তাঁর (চালক) কাছে লাইসেন্সসহ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। এরপরও ওই তিনজন ট্রাকের কেবিনে থাকা তাঁদের তিনজনের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মারধর করেন। তাঁরা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় দুই হাজার টাকা দিতে চাইলে তাঁদের আরও মারধর করা হয়। পরে মুরগি বিক্রির সব টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ওই তিনজন মোটরসাইকেলে শেরপুরের দিকে চলে যান। পরে ট্রাকটি নিয়ে শেরপুর থানায় এসে তাঁরা জানতে পারেন, সড়কে পুলিশ পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি শেরপুর থানার কেউ নন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন ভূইয়া বলেন, ছিনতাইয়ের ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে ট্রাকচালক এবং ছিনতাইয়ের ঘটনার দিনে ট্রাকে থাকা ওই তিনজন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার শালিকাগাড়ী বাজারে আরিফুলকে দেখে চিনতে পারেন। তিনি পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন নিশ্চিত হওয়ার পর ছিনতাইকারী বলে চিৎকার দেন। বাজারের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাঁদের সহযোগিতায় আরিফুলকে আটক করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, আরিফুলকে শুক্রবার রায়গঞ্জ থানা থেকে শেরপুর থানায় আনা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।