বহুতল ভবন পরিদর্শন হবে

ঢাকা শহরের বহুতল ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে ২৪টি দল গঠন করা হয়েছে। দলগুলো আজ সোমবার পরিদর্শন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। গতকাল রোববার রাজউক প্রধান কার্যালয়ের মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এর আগে রাজউকের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শহরে বহুতল ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা কেমন, তা খুঁজে দেখতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোমবার থেকে ২৪টি দল বহুতল ভবন পরিদর্শন শুরু করবে। অতীতে দেখা গেছে, কিছু নোটিশ দিয়ে আমরা ক্ষান্ত হয়ে গেছি। এখন তা হবে না। ১৫ দিনের মধ্যেই বহুতল ভবনের প্রতিবেদন আমরা পেয়ে যাব। জাতীয় পত্রিকায় এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করব। দেশের মানুষের জানা দরকার কারা কারা আইন লঙ্ঘন করেন, তাঁদের স্বরূপ দেশবাসীর জানা দরকার।’

এক প্রশ্নের জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ভবনে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকলে ‘অকুপেন্সি সনদ’ (বসবাস বা ব্যবহার সনদ) দেওয়া হবে না। আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে বিল্ডিং ব্যবহারের আগে হোল্ডিং নম্বর থাকতে হবে। যেসব বিষয় সন্নিবেশিত থাকলে বিল্ডিংটি নিরাপদ, বাসোপযোগী, ব্যবহারোপযোগী, পরিবেশসম্মত থাকবে, এর একটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ভবনে এর ব্যত্যয় ঘটলে শুধু ভবনের মালিক বা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকেই অভিযোগ করে ক্ষান্ত থাকব না। সেই সময় রাজউকের দায়িত্বশীলরাও দায়ী হবেন।’ অনুমোদনহীন সব ভবন ভেঙে ফেলারও ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার এফ আর টাওয়ারটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের সময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক কর্মকর্তা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন উল্লেখ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৭ সালে একজন অথরাইজড কর্মকর্তা রিপোর্ট করেছেন এফ আর টাওয়ার বিধিবহির্ভূতভাবে ১৮ তলার স্থলে ২৩ তলা করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ দায়িত্বহীনতাকে আমরা চিহ্নিত করব।’

বনানীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এ ঘটনা মনিটর করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা সিটি করপোরেশন—সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক তদন্ত কমিটির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও রাজউক স্বল্প সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনে ভবনের অনুমোদন থেকে শুরু করে ভবন ঊর্ধ্বমুখী হলো কিসের ভিত্তিতে, সে সময় কারা দায়িত্বে ছিলেন, যথাযথ অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছিল কি না, সিঁড়ি পর্যাপ্ত প্রশস্ত ছিল কি না, একটা দুর্ঘটনা হলে দ্রুতগতিতে মানুষ বেরিয়ে আসার মতো অবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত কমিটি নির্ধারণ করবে। যে সময় ঊর্ধ্বমুখী অতিরিক্ত ভবন নির্মিত হয়েছিল, সে সময় সেখানে ইন্সপেক্টর বা অথরাইজড কর্মকর্তা কারা ছিলেন অথবা অন্যান্য কারা কীভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন—সবাইকে তদন্ত কমিটি দৃশ্যপটে নিয়ে আসবে। স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

রাজউককে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, রাজউককে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজউকে সেবা নিতে এসে জনগণের ভোগান্তি কমাতে আগামী ১ মে থেকে সংস্থাটির সব সেবামূলক কার্যক্রম অনলাইনে হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সেবক, কেউ মালিক নই।’