বগুড়ার দুই 'দন্ত চিকিৎসক' যা করতেন

বগুড়া শহর থকে দুই ভুয়া চিকিৎসককে ধরে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: প্রথম আলো
বগুড়া শহর থকে দুই ভুয়া চিকিৎসককে ধরে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: প্রথম আলো

চকচকে সাইনবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে নানা যোগ্যতার বর্ণনা। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধনও আছে। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল সবাই ভুয়া। আর যে নিবন্ধন ব্যবহার করা হয়েছে, ওই নামে আছেন ভিন্ন এক চিকিৎসক।

এসব নিবন্ধন ও ডিগ্রির বর্ণনা পুঁজি করে চলত দন্ত চিকিৎসকের কর্মকাণ্ড।
বগুড়া শহরের তিনমাথায় ‘চেম্বার’ থেকে এমন দুই ভুয়া চিকিৎসককে ধরে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম ও সহকারী কমিশনার এ টি এম কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা হলেন মো. মেহেদী হাসান (২৬) ও মো. ফজলুল হক (৩৩)। মেহেদীর বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চাঙ্গুইর এলাকায়। আর ফজলুলের বাড়ি কাহালু উপজেলার জামগাঁওয়ে। মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল অ্যাক্ট-১৯৮০ সালের ২৫ ধারা লঙ্ঘন করায় তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানে থাকা কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বগুড়া শহরের তিনমাথায় দন্ত চিকিৎসক হিসেবে কয়েক বছর ধরে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন মো. মেহেদী হাসান। তিনমাথায় ফেরদৌসী আবাসিক ভবনের নিচে ছোট্ট একটি সিঁড়িঘরে মক্কা-মদিনা ডেন্টাল কেয়ারে রোগী দেখেন তিনি। সাইনবোর্ডে মেহেদী হাসানের যোগ্যতা লেখা রয়েছে এমডিটি, ডেন্টিস্ট্রি। এফটিসি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ। বিএসসি ইন হেলথ (ডেন্টিস্ট্রি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ৫৯৬২ নম্বরের নিবন্ধন ব্যবহার করছেন মেহেদী। তবে এই নিবন্ধন নম্বর তাঁর নয়।

বিএমডিসির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ৫৯৬২ নম্বরের নিবন্ধনকৃত চিকিৎসকের নাম মো. হুমায়ন কবির। তিনি ময়মনসিংহের নওয়াপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম নওয়াব আলী। সেখানেই তিনি রোগী দেখেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মক্কা–মদিনা ডেন্টাল কেয়ারে আজ বিকেলে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মেহেদীকে হাতেনাতে ধরা হয়। নির্বাহী হাকিম এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, মেহেদী হাসানের চিকিৎসক হওয়ার মতো কোনো সনদ নেই। তিনি যে সনদ দেখিয়েছেন, সেগুলোর সঙ্গে চিকিৎসার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি অন্য এক চিকিৎসকের নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন। মেহেদী দোষ স্বীকার করেছেন। এই কারণে তাঁর এক মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই দিনে তিনমাথার মিতালী হোটেলের পাশে মা-বাবা ডেন্টাল থেকে মো. ফজলুল হক নামের এক ভুয়া দন্ত চিকিৎসককে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সনদ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, হেলথ টেকনোলজির ওপর ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। এর সপক্ষে কয়েকটি সনদও দেখান। সেই সনদেও কারও স্বাক্ষর নেই। আর এগুলো চিকিৎসক হওয়ার মতো কোনো সনদ নয়। এ কারণে ফজলুল হককেও এক মাসের কারাদণ্ড দেন একই আদালত।

নির্বাহী হাকিম এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, ভুয়া চিকিৎসক সেজে ফজলুলও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এই বিষয়টি তিনি আদালতে স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকেও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে খাবারে অপব্যবস্থাপনার দায়ে তিনমাথার মিতালী হোটেলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই আদালত এই অভিযান পরিচালনা করেন।

আজকের অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাট অধিদপ্তরের বগুড়ার মুখ্য পরিদর্শক মো. সোহেল রানা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ৩ এপ্রিল শহরের খান মার্কেটের একটি গুদামে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল বিদেশি ওষুধ, খাদ্যপণ্য ও প্রসাধনী জব্দ করা হয়। এই জালিয়াত চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুদামের মালিকের দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে গত ৩১ মার্চ শহরের মফিজ পাগলা মোড় এলাকার একটি ভবনের গুদামে অভিযান চালিয়ে অর্ধকোটি টাকার সরকারি ওষুধসহ মিজানুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।