দুদকের মামলায় সোহেল রানার জামিন খারিজ

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক মামলায় সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে ওই মামলার বিচার শেষ করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

আইনজীবী সূত্র বলছে, দুদকের করা ওই মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন সোহেল রানা। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে হাইকোর্ট রুল দেন। কেন তাঁকে (সোহেল রানা) জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। এই রুল খারিজ (ডিসচার্জ) করে আজ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে সোহেল রানার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী চৌধুরী। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

জামিন আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন বলে জানিয়ে আমিন উদ্দিন মানিক প্রথম আলোকে বলেন, ফলে মুক্তি পাচ্ছেন না সোহেল রানা। মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। ছয় মাসের মধ্যে ওই মামলার বিচারকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রানার আইনজীবী সাজ্জাদ আলী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালের ২৪ জুন ওই মামলায় সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোহল রানার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটিতে জামিন আছেন। দুদকের ওই মামলায় অভিযোগ গঠন হলেও এখন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়নি। সোহেল রানা বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

ছয় বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন ১ হাজার ১৬৭ জন। ওই ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়, যার মধ্যে নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে পরের বছরের ১৫ জুন সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করে দুদক। এই মামলায় ওই বছরের ১৬ জুলাই ভবনমালিক রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।