অগ্নিদগ্ধ ওই ছাত্রীর বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী। প্রথম আলো ফাইল ছবি
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী। প্রথম আলো ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার পর থেকে তাঁর বাড়িতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিদগ্ধের পর ওই মাদ্রাসাছাত্রী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তাঁর চিকিৎসার কাজে পরিবারের সবাই ঢাকায় অবস্থান করছেন।

পুলিশ জানায়, এই মুহূর্তে ওই ছাত্রীর বাড়িতে পরিবারের কেউ নেই। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর ওই ছাত্রীর বাড়িতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ওই বাড়িতে পুলিশের চার জন সদস্য দিনরাত পর্যায়ক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত থাকবে।

ওই ঘটনায় মেয়েটির ভাই মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজীর ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা আলিম পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেবেন বলে তাঁর বোনকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। ওই দিনই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন তাঁদের মা। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেন। তখন থেকেই তাঁদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাঁর বোন আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে যান। এরপরই বোরকা পরা একটি মেয়ে তাঁকে জানান, নিশাত নামের এক বান্ধবীকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি মাদ্রাসার ভেতরের সাইক্লোন শেল্টারে তৃতীয় তলার ছাদে যান। সেখানে তাঁর বোনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর অবস্থা খুবই সংকটজনক। গতকাল সোমবার তাঁকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যবস্থায় (লাইফ সাপোর্ট) রাখা হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে মেয়েটি তাঁকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত একজনের নাম বলেছেন। দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে চিকিৎসকের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ছাত্রীটি বলেন, এ ঘটনায় চারজন অংশ নেন। এঁদের অন্তত দুজন নারী, একজনের নাম ‘শম্পা’। নেকাব, বোরকা, হাতমোজা পরা ছিল হামলাকারীদের। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটক ও গ্রেপ্তার হয়েছেন সাতজন।