আগুনে পুড়িয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসাটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ওই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে নুসরাত হত্যা এবং অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে জেনেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্যদ বাতিল করে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে চারজন অভিভাবক সদস্য, তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন শিক্ষানুরাগী, একজন দাতা সদস্য, অধ্যক্ষকে সদস্যসচিব এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সভাপতি করা হয়। ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আক্তারুন্নেছা শিউলিও পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে থাকায় ঠিক কী কারণে কমিটি বাতিল করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।
এ দিকে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি অংশ নেওয়া সহপাঠী কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। শুক্রবার দুপুরে পিবিআইয়ের একটি দল রিমান্ডে থাকা মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। অপর দিকে দুই আসামিকে রিমান্ড শেষে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে শুক্রবার বিকেলে হাজির করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত এই দুই আসামি হলেন জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপি।
প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষের অনুগত কয়েকজন শিক্ষার্থী। গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিনই গুরুতর আহত অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। শরীরে ৭৫ শতাংশের বেশি পোড়া নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১০ এপ্রিল হার মানেন নুসরাত।