গণফোরামে ক্ষোভ কমাতে মোকাব্বিরকে 'তড়িঘড়ি' চিঠি

গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোকাব্বির খান দলের সিদ্ধান্ত না মেনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন ২ এপ্রিল। শপথের ২৬ দিনের মাথায় এসে গণফোরাম থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) চিঠি পেয়েছেন তিনি।
গণফোরামের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে মোকাব্বির খানের উপস্থিতি নিয়ে দলে সৃষ্ট ক্ষোভ ও মতানৈক্য নিরসনের অংশ হিসেবে এবং দলের ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো বিশেষ করে বিএনপির কাছ থেকে বিরূপ সমালোচনার মুখে অনেকটা ‘তড়িঘড়ি’ করে মোকাব্বির খানের কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে মোকাব্বির খান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘কিছুক্ষণ আগে চিঠি পেয়েছি। এখন সংসদে যাচ্ছি। জবাবের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব।’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোকাব্বির খান সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর দল গণফোরামে এ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে কেউ শপথ গ্রহণ করবে না বলে জানালেও মোকাব্বির সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
মোকাব্বির খান শপথ নেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে গণফোরামে দ্বন্দ্ব ও অস্থিরতা চলছিল শুরু থেকেই। দলের আগের সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ নেওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। কিন্তু মোকাব্বিরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই অস্থিরতার সৃষ্টি। ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোকাব্বির খান দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মূল মঞ্চে বসেন। তাঁর উপস্থিতি নিয়ে সেখানে থাকা নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ‘শেম’ ‘শেম’ বলে আওয়াজ করতে থাকেন কাউন্সিলে যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীরা। দলের প্রশিক্ষণ–বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ থেকে দল ছাড়ার কথা বলেন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু নিজে এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। যদিও তিনি সেদিন কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন না।
২০ এপ্রিল গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় মোকাব্বিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। তবে সে চিঠি গতকাল ২৭ এপ্রিল পাঠানো হয়। প্রশিক্ষণ–বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিঠি গতকাল শনিবার সকালে সাধারণ সম্পাদক মন্টু ভাইয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর করে আনা হয়েছে। তবে “২০ এপ্রিল” তারিখ দিয়ে স্বাক্ষর করে আনা হয়েছে। শোকজের এই চিঠি লেখা হয় ২১ এপ্রিল। কিন্তু তখন এই বিষয়টি দলের কাছে গুরুত্ব পায়নি।’
কারণ দর্শানোর চিঠিতে মোকাব্বিরকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গণফোরামের একাধিক সদস্য জানান, কাউন্সিলের পর নানা সমালোচনা ও দলের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তখন কোনো কোনো নেতা জানতে পারেন কারণ দর্শানোর চিঠিটি মোকাব্বিরকে পাঠানো হয়নি। মোকাব্বির খানও গতকাল পর্যন্ত চিঠি পাননি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে তড়িঘড়ি করে এ চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলের ভেতরে যে বিতর্ক ও সংকট তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনেই এ চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ২০ এপ্রিল গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় মোকাব্বির খানের বিষয়টি নিয়ে নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বও তৈরি হয়। সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির বেশির ভাগ নেতা সেদিন মোকাব্বির খানকে বহিষ্কারের পক্ষে অবস্থান নেন। সে সময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে প্রাথমিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। তখন দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলেন। তবে সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুসহ অনেকেই চেয়েছিলেন মোকাব্বির খানকে বহিষ্কার করা হোক।’