নির্দিষ্ট ক্রেডিট ছাড়াই পাস করা শিক্ষার্থীরা সনদ পাবেন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করেও ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন করতে পারবেন না, তাঁদের পাস সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে; অর্জন করতে হবে কমপক্ষে ৯০ শতাংশ ক্রেডিট। রোববার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দিষ্ট কোর্স মেয়াদে অভীষ্ট ক্রেডিট অর্জন করে সিজিপিএ হিসেবে সম্মান ডিগ্রি অর্জন করতে পারছেন না, এমন শিক্ষার্থীরা যদি ন্যূনতম ৯০ শতাংশ ক্রেডিট অর্জন করতে পারেন, তবে তাঁদের শুধু পাস সনদ দেওয়া হবে। এই সনদ নিয়ে শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়ক কোর্স করতে পারবেন। করতে পারবেন চাকরির আবেদনও।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট ক্রেডিট অর্জন করতে পারলেই সিজিপিএ অনুযায়ী অনার্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। একমাত্র স্থাপত্য ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) নির্দিষ্ট কোর্স আট বছরের মধ্যে শেষ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ২০০ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যান্য স্কুলে (অনুষদে) এই নির্দিষ্ট ক্রেডিটের সীমা ১৩৬ থেকে ১৬০-এর মধ্যে এবং শিক্ষা কোর্সের সময়সীমা সাত বছর। এত দিন সম্মান ডিগ্রি পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট ক্রেডিট অর্জনের বাধ্যবাধকতা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভর্তির পর স্বাস্থ্যগত ও অন্যান্য কিছু কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট শিক্ষা মেয়াদে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জনে ব্যর্থ হন। ফলে তাঁদের খালি হাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়। পরবর্তী জীবনে এই শিক্ষার্থীদের পুনঃ ভর্তির কোনো সুযোগ থাকে না। সনদ না থাকায় কোনো কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগও হারান তাঁরা। এতে ওই সব শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার হতাশায় নিমজ্জিত হয়। বিষয়টি গত ৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৬৩তম সভায় উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। কাউন্সিল মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত ৯০ শতাংশ ক্রেডিট অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের শুধু পাস সনদ দেওয়ার ব্যাপারে সিন্ডিকেটের কাছে সুপারিশ করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৯৯তম সভায় একাডেমিক কাউন্সিলের ওই সুপারিশ অনুমোদন হয়।
কর্মকর্তারা বলেন, বিষয়টি সিন্ডিকেট সভার তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে পাস সনদধারী শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাবেন।
সিন্ডিকেট সভার সভাপতি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, ‘নির্ধারিত ক্রেডিট অর্জন করতে না পারায় সাত-আট বছর লেখাপড়া করেও অনেক শিক্ষার্থী খালি হাতে বিদায় নেন। এটি তাঁদের মতো আমাদের জন্যও হতাশাজনক। এ ধরনের ঘটনায় অনেক পদস্থ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে থাকেন। কিন্তু সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় এবং শিক্ষা অধ্যাদেশে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এ ব্যাপারে এত দিন কোনো মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।’