নারী ইউপি সদস্যকে মারধর করলেন পুরুষ সদস্য
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছিতে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মারধরে সংজ্ঞাহীন ওই নারী সদস্যকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য বিপ্লব হোসেনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন।
নাসিমা খাতুন উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। আর বিপ্লব হোসেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
নাসিমা বলেন, ইউপি সদস্য বিপ্লব তাঁর ওয়ার্ডে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রকল্প সভাপতি হিসেবে কাজ তদারকি করছেন। তাঁর (নাসিমা) অভিযোগ, আলোচিত প্রকল্পে ২৬ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র ৫ জন শ্রমিক দিয়ে নামমাত্র কাজ করাচ্ছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করছেন।
নাসিমা দাবি করেন, ঈদের আগে টানা ছয় দিন একজন শ্রমিকও কাজ করেননি। অথচ ভুয়া মাস্টাররোল দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন বিপ্লব। পিআইওর কার্যালয় বা ট্যাগ অফিসাররা কখনোই নিয়মিত পরিদর্শন করেন না। মাঝেমধ্যে ফোন করে এলে ইউপি সদস্য বিপ্লব হোসেন তাঁর পরিচিত লোকদের প্রকল্প এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখেন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিপ্লব বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ইউনিয়ন কার্যালয়ে ফেরার পর নাসিমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। টাকা আত্মসাতের ঘটনার প্রতিবাদ করলে বিপ্লব ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই নাসিমাকে উপর্যুপরি কিলঘুষি ও তলপেটে লাথি মারেন। এতে নাসিমা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন তাঁকে প্রথমে আলমডাঙ্গা শহরের মোস্তফা ক্লিনিক ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান।
একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ঠাণ্ডু আলী নারী সদস্য নাসিমা খাতুনের অভিযোগ সঠিক দাবি করে বলেন, ‘প্রভাবশালীদের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় বিপ্লব মেম্বারকে কেউই কিছু বলেন না।’ বিপ্লব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম দাবি করেন, নাসিমা খাতুনের অভিযোগ পুরোপুরি ঠিক না। ২৬ জনের কাজ ৫ জনকে নিয়ে করানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। কর্মসৃজন প্রকল্পে চার-পাঁচজন শ্রমিক কম রাখা স্বাভাবিক ঘটনা। তিনি বলেন, ‘কর্মসৃজন প্রকল্প বাবদ নাসিমা বিপ্লবের কাছে টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। এরই মধ্যে বিপ্লবকে নাসিমা স্যান্ডেল দিয়ে মারধর ও মোটরসাইকেলের লাইট ভেঙে দিলে বিপ্লব ধাক্কা মারেন। এর বেশি কিছু না।’
এ ব্যাপারে জানতে পিআইও এনামুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে অফিস সহকারী আবদুল লতিফ জানান, উপজেলায় ৭১টি প্রকল্পের কাজ চলছে। লোকবলের অভাবে সব কাজ তদারকি করা যায় না।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান মুন্সী মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।