মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

রাজধানীর ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে গাইবান্ধা শহরের রিয়াদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মাদকের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার গাইবান্ধা জেলা শহরের ভি এইড সড়কের সৈয়দ কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

রিয়াদ হোসেন (৪২) গাইবান্ধা পৌরসভার পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। পেশায় লেদমিস্ত্রি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ভাই জাভেদ হোসেন লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রিয়াদ ওয়ার্কশপের মাল কিনতে ঢাকায় যান। তিনি গত ৯ মে রাজধানীর জয়কালী মন্দিরের পাশে ওসমানিয়া হোটেলে ওঠেন। ১৩ মে রাত নয়টার দিকে চাচাতো শ্যালক সেলিম মিয়া তাঁকে কল করেন। কলটি ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, রিয়াদকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওয়ারী থানায় রয়েছেন।

রিয়াদের ভাই জাভেদ বলেন, ‘১৪ মে সকালে ঢাকা জজ আদালতের আইনজীবী জহুরুল ইসলাম আমাকে কল করে বলেন, রিয়াদকে কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতে পাঠানো হবে। তাঁর জামিন চাইলে দেখা করে বা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠান। আমি জহুরুলকে দুই হাজার টাকা পাঠাই। দুপুরে ওয়ারী থানার এসআই রঞ্জিত সরকার আমাকে কল করে বলেন, রিয়াদ চুরির মামলায় আটক রয়েছেন। আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি। বলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর দেলোয়ার নামের একজন কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে কল করেন। তিনিও বলেন, রিয়াদ চুরির ঘটনায় আটক আছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জাভেদ আরও বলেন, ‘১৪ মে বেলা তিনটার দিকে আইনজীবীর কাছে জানতে পারি, রিয়াদকে আদালতে পাঠানো হয়নি। পরদিন দুপুরে রিয়াদকে আদালতে নেওয়া হয়। আমি আইনজীবী জহুরুলকে মামলার অনুলিপি তুলতে বলি। মামলার কাগজ পেয়ে দেখি, রিয়াদকে চুরি নয়, ১৪ মে রাতে ১ হাজার ৯০৩টি হেরোইনের পুরিয়াসহ আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

>গাইবান্ধার যুবক রিয়াদ হোসেন যান ঢাকায়
ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান টাকা না পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা করেন বলে অভিযোগ


জাভেদ আরও বলেন, ‘১৫ মে দুপুরে আমি মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজ মিয়াকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাই। তিনি বলেন, তিনি নিরুপায়। তাঁকে ওসি সাহেব বলেছেন, তোমাকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) হতে হবে। তাই তিনি আইও হয়েছেন। পরে মামলাটির বাদী এসআই রঞ্জিত সরকারকে কল করলে তিনি বলেন, আপনি তো যোগাযোগ করলেন না। এখন কী করব। যদি যোগাযোগ করতেন, তবে এটা হতো না। পরে আমি ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমানকে ফোন করি। তিনি আমাকে থানায় চায়ের দাওয়াত দিয়ে সংযোগ কেটে দেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জাভেদ বলেন, ‘রিয়াদকে যদি ১৪ মে রাতে মাদক বিক্রি করার সময় আটক করা হয়, তবে ১৩ মে তাঁকে ধরা হলো কেন? কেনই বা আমাকে ১৪ মে দুপুরে এসআই রঞ্জিত ও কনস্টেবল দেলোয়ার কল করলেন? আমি ১৭ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেখা করে জানতে পারি, ওসি টাকার জন্য রিয়াদকে দুই দিন মারধর করেছেন।’

জাভেদ বলেন, তাঁর সঙ্গে এসআই রঞ্জিত সরকার, কনস্টেবল দেলোয়ার, আইও মফিজ মিয়া ও ওসি আজিজুর রহমানের মুঠোফোনে বলা কথার সব রেকর্ড আছে। ওয়ারী থানার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ ও ফোনকলের রেকর্ড যাচাই করলে সব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাভেদ বলেন, তিনি এসব ঘটনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। কিন্তু ঘটনার দেড় মাস পার হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। তিনি সুষ্ঠু বিচার পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত মঙ্গলবার ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ঠিক নয়। স্থানীয় লোকজন মাদকসহ রিয়াদকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এর ভিত্তিতে রিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।