ব্যস্ত সড়কটি এখন পরিত্যক্ত

ছয় বছর আগে পাবনার বেড়ার বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া সড়ক নির্মাণের পর আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল উপজেলাটির অন্তত ১০টি গ্রামে। সড়কটি হওয়ায় উপজেলা সদর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। এ সময় সড়কে চলাচল করতে থাকে অসংখ্য যানবাহন। কিন্তু বর্তমানে সড়কটি ভেঙেচুরে এতটাই বেহাল হয়ে পড়েছে যে এটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। বিলের মধ্য দিয়ে হওয়ায় এর চারপাশের চাকলা, নলডাঙা, খাকছাড়া, দমদমা, জয়নগরসহ ১০টি গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। পরিত্যক্ত হওয়ায় যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেড়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ২০১৩ সালে সড়কটি নির্মাণ করতে খরচ হয় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি সরু ও নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। গত ছয় বছরে এলজিইডির পক্ষ থেকে সড়কটির কোনো সংস্কারও করা হয়নি। নিচু হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে সড়কের কয়েকটি স্থান ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া স্থানসহ সড়কের অনেক স্থানই বর্ষা ও বৃষ্টির পানিতে ভেঙে যেতে থাকে। কিন্তু এবারের বর্ষা ও বৃষ্টিতে সড়কের কয়েকটি স্থান প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। এসব স্থান কোনো যানবাহনের পক্ষেই পার হওয়া সম্ভব নয়। এরপরও হঠাৎ কোনো যানবাহন এই সড়কে ঢুকে পড়লে প্রচণ্ড দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়।
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশ কিছু অংশ বিলের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল নেই বললেই চলে। সড়ক দিয়ে একটি রিকশা আসতে দেখা যায়। তবে ভেঙে যাওয়া অংশে এসে সেটিও কাদাপানি মাড়িয়ে ফিরে যায়।
রিকশাটির চালক ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘আমি জানতাম সড়কটা ভাঙা হলিউ কোনোরকমে যাওয়া যায়। এখন না জাইনা এই পথে আইসা বিপদে পড়ছি।’
খাকছাড়া গ্রামের বঙ্গবন্ধু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন বলেন, ‘সড়কটি চালু হওয়ার পর আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। সড়কটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় যানবাহন দূরের কথা হেঁটেও শিক্ষার্থীদের আসার উপায় নেই। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।’
এলজিইডির বেড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কদ্দুস বলেন, ‘সড়কটি মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’