সেতু না থাকায় দুর্ভোগ

যাদুকাটা নদীর ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় মানুষকে। সম্প্রতি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকায়।  প্রথম আলো
যাদুকাটা নদীর ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় মানুষকে। সম্প্রতি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকায়। প্রথম আলো

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাদাঘাট, উত্তর বড়দল ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের লোকজন জেলা শহরে সহজে ও কম সময়ে যাতায়াতের জন্য উপজেলার বাদাঘাট হয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর-শক্তিয়ারখলা সড়কটি ব্যবহার করে বেশি। এটি তাদের জন্য ‘ফাঁড়িপথ’। একইভাবে বিশ্বম্ভরপুর ও জেলা শহরের লোকজনও তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকায় যেতে ব্যবহার করে এই পথ। কিন্তু মাঝখানে মিয়ারচর এলাকায় জাদুকাটা নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা বাজার থেকে একটি সড়ক ডান দিকে তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর মিয়ারচর এলাকায় গেছে। এ সড়ক ধরেই কম সময়ে জেলা শহরের লোকজন তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়চরা-চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন, টেকেরঘাটের শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি), বারিকটিলা ও শিমুলবাগানে যাতায়াত করে। এসব এলাকা পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় গন্তব্য। এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কাশতাল এলাকার শাল–শাপলার বিকি হাওর। বিকি হাওরে যেতে হয় এই সড়ক হয়েই। আবার সীমান্ত এলাকার লোকজনও ওই পথে সহজে জেলা শহরে যাতায়াত করে। এ জন্য মিয়ারচর এলাকায় জাদুকাটা নদী পার হতে হয় খেয়ায়।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, এই পথে মানুষের চলাচল বেশি। তাহিরপুরের বাদাঘাট একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় রয়েছে তিনটি শুল্ক স্টেশন। আবার সীমান্ত এলাকার লোকজনও এই পথে চলাচল করে বেশি। কিন্তু মিয়ারচর এলাকায় কোনো সেতু না থানায় সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। মানুষের চাপ বেশি হওয়ায় খেয়া পারাপারে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় লোকজনকে।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ জরুরি। এতে সীমান্ত এলাকার লোকজন সহজে জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারবে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থীরা তাহিরপুরের বাদাঘাট উচ্চবিদ্যালয়ে এসে লেখাপড়া করে। ওই খেয়া পার হতে হয় তাদের। এতে ঝুঁকি আছে। সেতু হলে তাদেরও সুবিধা হবে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা পিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় ব্যবসার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ওই সড়ক দিয়ে সেখানে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় মিয়ারচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নৌকা ওপারে, মানুষের চাপ বেশি। তখন সময় লাগে বেশি। এতে ভোগান্তি হয়।

তাহিরপুর সদরের বাসিন্দা তেপান্তর ইজি ট্যুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবরুল হাসান জানান, উপজেলার পুরো সীমান্ত এলাকা পর্যটকদের জন্য খুবই আকর্ষণীয় স্থান। বিশেষ করে ছুটির দিনে এসব এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকে বেশি। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি পর্যটকেরাও সহজে এখানে যাতায়াত করতে পারবেন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া বলেন, উপজেলার শক্তিয়ারখলা থেকে মিয়ারচর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ছিল। এখন সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ভালো হলে মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে। তাই মিয়ারচর এলাকায় জাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মাণ জরুরি। এখানে সেতু হলে দুই উপজেলার মানুষই লাভবান হবে।

বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুর রহমান তালুকদার জানিয়েছেন, সরকারের ‘পল্লি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের জাদুকাটা নদীর উজানে তাহিরপুরের লামাশ্রম এলাকায় জাদুকাটা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। জাদুকাটা নদীর মিয়ারচর এলাকায় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে এখানে একটি সেতু হলে মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে স্বীকার করেন তিনি।