'জিতে যাওয়ার পর পাশে পাব তো?'

‘ভোটের জন্য বাড়িতে এসেছেন। জিতে যাওয়ার পর আপনাকে পাশে পাব তো?’ নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনে ভোট প্রার্থনায় নেমে একজন ভোটারের এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। জবাবে তিনি পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির সামনে গিয়ে ভোট চাওয়ার সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এর আগে সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী।
শফিউল ইসলাম ধানমন্ডি ১৫ নম্বর সড়কে একটি বাড়ির সামনে ভোট চাইতে গেলে তৃতীয় তলা থেকে একজন নারী উচ্চ স্বরে বলে ওঠেন, ‘নির্বাচনে জেতার পর কি আমাদের মনে রাখবেন? এলাকার জন্য কাজ করবেন? মানুষের পাশে থাকবেন?’ তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাত উঁচিয়ে সম্মতি জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, তিনি তো (ওই নারী) ঠিকই বলছেন। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি তো এমনই হয়।
প্রচারের দ্বিতীয় দিন ধানমন্ডির ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর সড়কে গণসংযোগ করেন শফিউল ইসলাম। গতকাল তাঁর প্রচারে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখা যায়নি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রচারে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে গতকাল কিছুটা ভিন্ন পরিবেশও চোখে পড়ল। শফিউল যেসব এলাকায় গেছেন, সেসব এলাকায় যানবাহন চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে ব্যাপারে তৎপর ছিলেন দলীয় নেতা–কর্মীরা। এ ছাড়া উচ্চ স্বরে স্লোগানও খুব একটা হয়নি।
এর আগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিউল ইসলাম বলেন, জনগণের সেবা করার জন্যই তাঁরা রাজনীতি করছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় যেন কোনো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখার জন্য নেতা–কর্মীদের নির্দেশনা দেন নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী।
গত ১১ বছরে ঢাকা-১০ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে দাবি করে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, নির্বাচিত হলে আগের সাংসদের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন। সিটি করপোরেশনসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার উন্নয়ন করা হবে।

‘ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে’
ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম গতকাল সোমবার দিনভর জনসংযোগ চালিয়েছেন। জনসংযোগকালে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেছেন, ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। জনগণের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ কমেছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে জনগণ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
সকালে আবাহনী মাঠে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের মাধ্যমে দিনের প্রচারণা শুরু করেন শেখ রবিউল আলম। পর্যায়ক্রমে তিনি ধানমন্ডি লেক, কাঁঠালবাগান, গ্রিনরোড, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও বাংলামোটর এলাকায় ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। বিকেলে কলাবাগান থানায় নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধন করেন শেখ রবিউল।
গণসংযোগকালে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম বলেন, বর্তমান ভোটব্যবস্থায় ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না, কিন্তু জনগণ ভোট দিতে চান। তাই রাজনৈতিক দল হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিএনপি আন্দোলন করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় না। তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বাধ্য করা যায়নি। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়নি। জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার দায়িত্ব বিএনপিরও আছে। সে কারণে দলের প্রার্থী হিসেবে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।
গত রোববার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রচারে নামেন বিএনপির এই প্রার্থী। সেদিন বিকেলে দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর সড়কে প্রচারণা চালান রবিউল আলম। ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় গতকালও দেড় শ থেকে দুই শ নেতা–কর্মী ছিলেন। তাঁরা ভোটারদের কাছে প্রচারপত্র বিলি করেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলে ভোটারদের কাছে ভোট চান।
শেখ রবিউলের গতকালের গণসংযোগে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাবিরুল হায়দার চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন, কলাবাগান থানা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড, ট্যানারি মোড়, মনেশ্বর রোডসহ বেশ কিছু এলাকায় গণসংযোগ করবেন শেখ রবিউল আলম।
২১ মার্চ এই আসনে ভোট গ্রহণ হবে।