সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই

প্রায় তিন বছর ধরে কেবল শোনাই যাচ্ছে সংস্কার হবে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা কাপ্তান বাজারের মাছবাজারটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বাজারের ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে দোকানিরা ছাদের নিচে কাঠের খুঁটির ওপর মোটা পলিথিনের ছাউনি তুলে রেখেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মার্কেট ও বাজারগুলোর দেখভাল করে সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগ। এই বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। কিন্তু বাজারের দোকানিরা বলছেন, তিন বছর ধরে তাঁরা এমন কথা শুনে আসছেন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপ্তান বাজারের ভেতরে মাছবাজারের জন্য ১৯৯৬ সালে একটি ভবন নির্মাণ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন। ভবনটি তিনতলা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও একতলার কাজ শেষ হওয়ার পর বাকি কাজ আর হয়নি। বর্তমানে ভবনটির নিচতলায় ১৯৯টি দোকান আছে। দোকানিদের অভিযোগ, ভবনটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটি টেকসই হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। ক্রেতাদের ঝুঁকি রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ আয়তনের বাজারটির ভেতরের ভবনের বেশির ভাগ অংশেই পলেস্তারা খসে পড়ে রড দেখা যাচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে কেউ কেউ মাথার ওপরে থাকা অংশের সংস্কার করেছেন। পলেস্তারা যাতে মাথায় এসে না পড়ে তাই অনেকে কাঠ ও বাঁশের অবকাঠামো করে মোটা পলিথিনের ছাউনি দিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা দেখতে দেখতে তাঁরা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বলে জানালেন কয়েকজন দোকানি। তাঁরা বলছেন, ‘এ আর নতুন কি? করপোরেশন তো সংস্কার করছে না। তাই বলে তো ব্যবসা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকা যায় না।’
সম্প্রতি দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম অংশে ক্রেতাদের মাছ কেটে দিচ্ছিলেন বিক্রেতা হাবিব। তিনি যেখানে বসে মাছ কাটছিলেন, সেখানে তাঁর মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে আছে। হয়তো আরও কিছু অংশ খসে পড়বে! ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কেন সেখানে বসেছেন—জানতে চাইলে বললেন, তিনি না বসলে ঝুঁকি জেনেও অন্য কেউ সেখানে বসবেন। দুর্ঘটনা ঘটার পর সমবেদনা জানানোর চেয়ে আগেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর জানামতে আট–দশ বছর আগেই ভবনটির সংস্কার করার কথা। সাম্প্রতিক কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই। অবশ্য তাঁর ভাষ্য, সিটি করপোরেশনের অসাধু কিছু কর্মকর্তা যেখানে লাভ আছে, সেখানে হাত দেন। যেখানে লাভ নেই, সেখানে হাত দেন না। কারণ, সংস্কারের পর দোকানগুলো পাবেন বরাদ্দপ্রাপ্ত আগের ব্যবসায়ীরা। নতুন কোনো দোকান হবে না। তাই বাণিজ্যও করতে পারবে না। যার কারণে এটি সংস্কারে হাত দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসূফ আলী সরদার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। ইতিমধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ এই ভবন নির্মাণ করা হবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সম্পত্তি বিভাগে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার রাসেল সাবরীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সম্পত্তি বিভাগ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক করে বলে আমার জানা নেই। আগে এমন কোনো বিষয় আছে কি না, তা দেখতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে—এমন সংবাদ তিন বছর ধরেই শুনছি। এই উদ্যোগ নেওয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী আমাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়ার কথা। কিন্তু আমরা এমন কোনো চিঠি এখনো পাইনি।’ তবে নতুন মেয়র ও কাউন্সিলর দায়িত্ব নেওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির দিকে নজর দেবেন বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।