নারীর বন্দিদশা ঘুচল এক পুলিশের উদ্যোগে

পাকা দালানের পাশে প্রায় এক যুগ আগে ঠাঁই হয়েছিল ঝুপড়ি মতো একচালা টিনের একটি ঘরে। স্বামী-সন্তান, পরিজন—সবই ছিলেন। কিন্তু কারোই নজর ছিল না তাঁর দিকে। লোকচক্ষুর আড়ালে কখনো শীতে, কখনো গরমে, কখনো ক্ষুধায় কাতর দিন কেটেছে তাঁর। অযত্ন–অবহেলা আর নোংরা পরিবেশে সেই যে ঢুকেছিলেন, বের হলেন গত মঙ্গলবার।
এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্যোগে এখন তাঁর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন শয্যায়। রক্তের বন্ধনহীন কিছু মানুষ তাঁকে কাছে টেনে শুরু করেছেন সেবা-শুশ্রূষা।
মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারীর নাম হাবিবুন নেছা (৫৮)। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামে। স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক তাঁকে শিকলমুক্ত করেছেন। বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে ব্যবস্থা করেছেন চিকিৎসার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুন নেছা বড়লেখা সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের মুহিবুর রহমানে স্ত্রী। বিয়ের প্রায় সাত-আট বছর পর হঠাৎ করেই তাঁর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তত দিনে তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে হয়েছে। মানসিক সমস্যার পর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে ছেলেমেয়ে নিয়ে আলাদা সংসার করেন। এ অবস্থায় সেখানে কয়েক বছর টিকে থাকলেও স্বামী, ছেলেমেয়ে তাঁর প্রতি উদাসীন ছিলেন। একপর্যায়ে প্রায় ১৪ বছর আগে হাবিবুন নেছাকে বাড়ি নিয়ে যান তাঁর বড় ভাই ইসলাম উদ্দিন। সেখানে বছর দেড়েক ভালো ছিলেন। আবার মানসিক সমস্যা তীব্র হলে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। এরপর ভাইয়ের পাকা দালানঘরের পাশেই ঝুপড়ি মতো একচালা ঘরের মধ্যে তাঁর ঠাঁই হয়।
গত সোমবার স্থানীয়ভাবে শিকলবন্দী এক নারীর খোঁজ পান বড়লেখা থানার ওসি। ঘটনাটি তাঁকে নাড়া দেয়। তিনি সত্যতা যাচাই করে গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উদ্ধার করেন হাবিবুন নেছাকে। তাঁকে গোসল করান। খাবার খাওয়ান। এরপর নিয়ে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে নিজ দায়িত্বে ভর্তি করান। প্রয়োজনীয় ওষুধ, দুধ ও ফলমূল কিনে দেন। দেখাশোনার জন্য দুজন নারী পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেন। ওই দুই নারী সদস্যই তাঁকে খাওয়ানো, সেবা-যত্ন করছেন।
হাবিবুন নেছার ভাই ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, খুলে দিলে মানুষকে মারধর করেন। উধাও হয়ে যান। এ জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছিল।
ওসি মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘তাঁর অবস্থা ভালো। তবে মানসিক সমস্যা কিছু আছে, এটা বোঝা যায়। ছেলেদের ডেকে এনেছিলাম। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন আমরাই দায়িত্ব নিয়ে তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করছি। দেখি কী করা যায়।’