সাতকানিয়ায় কিশোরসহ ২ জন করোনায় আক্রান্ত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এক কিশোরসহ দুজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষায় তাঁদের করেনাভাইরাস শনাক্ত হয়।
পরে গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকেই ওই কিশোরের পরিবারসহ তার এলাকার ছয় পরিবার এবং ওই ব্যক্তিসহ তাঁর এলাকার ১৭ পরিবার মোট ২৩ পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন।
এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর (১৭) কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। আক্রান্ত অপর ব্যক্তি (৩২) বেশ কিছু দিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন। দুই দিন আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে দুজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তাঁদেরসহ আরও কয়েকজনের নমুনা বিআইটিআইডিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে গতকাল রাতে কিশোর ও ব্যক্তির পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা প্রথম আলোকে জানান, ওই কিশোর ঢাকায় একটি দোকানে কর্মী হিসেবে কাজ করে। সরকার ছুটি ঘোষণার পর সে সাতকানিয়ায় চলে আসে। আর ওই ব্যক্তি ঠিকাদারী ব্যবসা করেন।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবদুল মজিদ ওসমানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই কিশোর অসুস্থ বোধ করার পর আমাদের জানানো হয়। পরে আমরা বাসার গিয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করি। আর ওই ব্যক্তি জ্বর ও কাশি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।’
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ-আলম প্রথম আলোকে বলেন, সাতকানিয়ার মোট চারজন বাসিন্দার করেনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন, একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
ইউওনও বলেন, গতকাল রাতে ওই কিশোর ও ওই ব্যক্তির করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ২৩টি পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন করা এলাকায় কোনো বাসিন্দাকে বাইরে বের না হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাইরের কোনো ব্যক্তিকে ওই এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।