নওগাঁয় ১০ টাকা কেজির ১৭০ বস্তা চাল জব্দ
নওগাঁ সদর উপজেলায় একজন ডিলারের বাড়ি ও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৭০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন এ অভিযান পরিচালনা করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের খোলাবাজারে পণ্য বিক্রয় কর্মসূচির (ওএমএস) ডিলার আবু সাঈদ। তিনি বর্ষাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহার ভাতিজা। আবু সাঈদ তাঁর বাড়িতে এবং তাঁর শ্যালক আব্দুর রউফের বাড়িতে ওএমসের চাল মজুত করে রেখেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল রাত ১০টার দিকে অভিযান চালান ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুন। অভিযানে সাঈদের বাড়ি থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য ৫০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে তাঁর শ্যালক ও বর্ষাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফের বাড়ি থেকে ওএমএসর আরও ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। আবু সাঈদ ও আব্দুর রউফকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ইউপির চেয়ারম্যান ও বর্ষাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শাসসুজ্জোহার প্রভাব খাটিয়ে ওএমএসের ডিলার হন তাঁর ভাতিজা আবু সাঈদ। গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার বর্ষাইল বাজারে ওএমসের পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রে চাল বিক্রির কার্যক্রম চলছিল। গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন ভ্যানে করে বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল সরাতে দেখেন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি ইউএনওকে জানান।
ডিলার আবু সাঈদের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ইউপির চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহা জানান, অভিযানের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ইউএনও আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বর্ষাইল ইউনিয়নের ওএমএসের পণ্য বিক্রয়ের ডিলার ও তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ১৭০টি বস্তায় মোট ৫ হাজার ১০০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। চালগুলো থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের ধরার চেষ্টা চলছে।