মরদেহ দাফনকারীদের সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে নমুনা সংগ্রহের সঙ্গে জড়িতদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর (পিপিই) ব্যবস্থা করেছে সরকার। ল্যাবরেটরিতে নমুনা যাঁরা পরীক্ষা করেন, তাঁদেরও পিপিই আছে। পিপিই আছে চিকিৎসক ও নার্সদের। তবে যাঁরা মরদেহ দাফনের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের পিপিই নেই। তাঁদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি আছে অন্যদের মতো।
রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৬ জনকে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কয়েকজন আছেন সন্দেহভাজন করোনা রোগী। গতকাল সোমবার দুপুরে দুজনকে দাফন করা হয়েছে ।
মরদেহ দাফনের সঙ্গে জড়িত আছেন চারজন। কবরস্থানে ঢোকার পর হাতের বাঁ পাশে চালাঘরে তাঁরা বসবাস করেন। ‘গোর খোঁড়া’ ও দাফনের কাজ আগে করতেন নয়জন। করোনায় মৃত দেহ আসা শুরু হওয়ার পর পাঁচজন অনুপস্থিত।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবরস্থানের ইমাম ওমর ফারুক বলেন, ‘সম্ভবত ভয়ে’। বাকিরা পরিবার নিয়ে কবরস্থানের সীমানার মধ্যেই থাকেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ‘কোভিড–১৯ রোগে মৃত ব্যক্তিদের মৃতদেহ দাফন/সৎকার’ বিষয়ে একটি নীতিমালা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুসরণ করে এই নীতিমালা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাতে বলা আছে, ‘মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা ও গোসল/তায়াম্মুমের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক, লম্বা গ্লাভস, পানিনিরোধী গাউন পরিধান করতে হবে।’ গতকাল দুপুরে কবরের মাটি খোঁড়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁদের একজন বলেছেন, করোনায় মৃত্যু শুরু হলে প্রথম দিকে চারজনকে একটি করে মাস্ক, গ্লাভস ও গাউন দেওয়া হয়েছিল। মরদেহ এলেই তাঁরা এগুলো ব্যবহার করেন। কাজ শেষে ধুয়ে ফেলেন। পরে আবার ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, গ্লাভস ও গাউন ব্যবহারের মতো নেই।
দাফন বাসৎকারের বিষয়টি দেখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক শাহনীলা ফেরদৌস। একাধিকবার ফোন করে ও মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই কবরস্থানে মরদেহ বহন করে আনেন আল মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশের কর্মীরা। এনজিওটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হামজা ইসলাম বলেন, তাঁদের ১৫ জন কর্মী ও গাড়িচালক মরদেহ আনা ও দাফনে জড়িত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাঁদের ২০০ পিপিই দিয়েছে। একবার মরদেহ নেওয়ার পর কর্মীরা পিপিই পুড়িয়ে ফেলেন। এ কাজের জন্য তাঁরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা নিচ্ছেন না। মানবিক কাজ বিবেচনায় তাঁরা এটি করছেন।
কবরস্থানের ইমাম ওমর ফারুক বলেন, অন্যান্য সময় মাসে ৩০ থেকে ৪০টি মরদেহএখানে দাফন করা হতো। এখন অন্য মরদেহ আসা কমে গেছে।
এখন গোর খোঁড়ায় যুক্তদের আয়ও কমে গেছে। অন্যরা দাফনের পর সন্তুষ্ট হয়ে কিছু অর্থসাহায্য করতেন, এখন সেটিও বন্ধ। গোর খোঁড়ায় যুক্ত ব্যক্তিরা অনেকটা ঠিকাদারের দয়ার ওপর জীবন নির্বাহ করেন। সিটি করপোরেশনের এই কবরস্থান পরিচালনা করেন ঠিকাদার আবদুল মালেক।