হাসপাতালের সামনে ফেলে গেলেন সঙ্গীরা

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক বালুশ্রমিককে নগরের বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফেলে যান তাঁর সঙ্গীরা। আজ বুধবার সকালে হাসপাতালের সামনে লাশ পড়ে থাকার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন ধারণা করে কেউ পাশে যাচ্ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ওই ব্যক্তির পরিচয় জেনেছে। তাঁর নাম সাদেক আলী (৫৫)। তাঁর বাড়ি নগরের মতিহার থানা এলাকার চরসাতবাড়িয়া মহল্লায়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা নদী থেকে ট্রাকে করে বালু নিয়ে আসার সময় ওই শ্রমিক ট্রাকের ওপরে বসে ছিলেন। হয়তো কোনোভাবে তিনি ট্রাক থেকে পড়ে যান। কিংবা তাঁর হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। বালুর ট্রাকের লোকজন তাঁকে ওই ট্রাকে করেই হাসপাতালে নিয়ে যান।

নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মনির বলেন, যাঁরা ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, তাঁরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক বারবার তাঁদের কাছে জানতে চান, ওই ব্যক্তি কীভাবে অচেতন হলেন। একপর্যায়ে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এতে তাঁরা বিরক্ত হয়ে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালের সামনে রেখে আসেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত ব্যক্তির ছেলে তুতুল ইসলাম বাদী হয়ে চন্দ্রিমা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।

তবে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সুজিত ভদ্র প্রথম আলোকে বলেন, গভীর রাতে মৃত অবস্থায় একজনকে ট্রাকের লোকজন হাসপাতালে আনেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ব্যক্তিকে গ্রহণ করেননি। পরে তাঁরা হাসপাতালের সামনে ওই ব্যক্তিকে ফেলে চলে যান।