টেকনাফে আটক রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি
করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে মিয়ামনারে পুশব্যাক করার প্রস্তুতি চলছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক রোহিঙ্গাদের আজই মিয়ানমারে পুশব্যাক (ফেরত পাঠানো) করা হবে। পুশব্যাকের প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড।
গতকাল বুধবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে অনুপ্রবেশ করে তিন শতাধিক রোহিঙ্গা । পরে তাদের আটক করে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া সৈকতের রাখা হয়। আটক রোহিঙ্গার মধ্যে পুরুষ ১৫০ জন, নারী ১৮০ জন, মেয়েশিশু ২০টি ও ছেলেশিশু ৩২টি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আটক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পুশব্যাকের প্রস্তুতি চলছে। ট্রলারেই তাদের পুশব্যাক করা হবে।
টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুশব্যাক করলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এখন একটি পয়েন্ট থেকে নৌকায় তুলে আটক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ঠেলে দিলে রোহিঙ্গা অন্য পয়েন্ট দিয়ে ফের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করবে। অতীতে এ রকম ঘটনা অনেক ঘটেছে। কারণ, মিয়ানমার কোনো দিন রোহিঙ্গাদের সেখানে ঢুকতে দেবে না।
স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন রেখে নমুনা পরীক্ষার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলো এমনিতেই ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে কেউ করোনাভাইস আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন পার করছে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ছয় লাখ মানুষ।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গার মধ্যে করোনায় আক্রান্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। রোহিঙ্গা শিবিরে বিদেশিদের যাতায়াত নিষিদ্ধসহ চলাচলের ওপর কড়া নজরদারি রাখছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব।