পটুয়াখালীতে মিলছে না জীবাণুনাশক

পটুয়াখালী
পটুয়াখালী

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পটুয়াখালীর ওষুধের দোকানগুলোয় জীবাণুনাশকের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক দোকানে স্যাভলন ও ডেটল একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। হেক্সিসলসহ কিছু পণ্য এখনো পাওয়া গেলেও সংকট রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা শহরের মহিলা কলেজ সড়ক এলাকার পুলিশ মার্কেটে নিউ সাফা মেডিকেল হাউসের মালিক মো. ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাজারে জীবাণুনাশক ওষুধের সরবরাহ না থাকায় তাঁরা বিক্রি করতে পারছেন না। ক্রেতারা কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

শহরের চরপাড়া এলাকার স্বপন ব্যানার্জি বলেন, ‘স্যাভলন কিনতে গিয়েছিলাম, যা পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করব। কিন্তু ওষুধের দোকানে গিয়ে শুনি স্যাভলন নেই।’


মিঠাপুকুরপাড় এলাকার গৃহিণী শামীমা মেজবাহ বলেন, ‘আমার বাসায় ছোট ছেলে আছে। ছেলের গোসল করাতে ও বাসা জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য জীবাণুনাশক কিনতে পারছি না। শহরের কোনো দোকানে স্যাভলন, ডেটলজাতীয় পণ্য নেই।’

সদর সড়ক এলাকার ইউসুফ ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতা মো. ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, জীবাণুনাশক ওষুধের পাশাপাশি ভিটামিন-সি ট্যাবলেটেরও চাহিদা বেড়েছে। ক্রেতারা ভিটামিন–সি সমৃদ্ধ ট্যাবলেট কিনতে আসছেন। কিন্তু এরও সরবরাহ কমে গেছে।

তবে বাজারের জীবাণুনাশক পণ্যের বিকল্প হিসেবে সাবান–পানি (সোপিওয়াটার) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এফ এম আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেড় লিটার পানিতে চার চামচ সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে তা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী শহরে ২০০টিসহ এ জেলায় প্রায় দেড় হাজার ওষুধ বিক্রির ফার্মেসি রয়েছে। এসব ফার্মেসিতে মালিকসহ প্রায় চার হাজার লোক কাজ করছেন। সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকলেও ফার্মেসিগুলো জরুরি সেবা দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। তবে বাজারে জীবাণুনাশকের সরবরাহ কমে গেছে।

এই সমিতির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পটুয়াখালীর ওষুধ ব্যবসায়ীরা মূলত ঢাকার মিটফোর্ড থেকে এসব ওষুধ ও হাতমোজাসহ অন্যান্য উপকরণ এনে থাকেন। কিন্তু এসব এখন ওখানেও পাওয়া যাচ্ছে না। পটুয়াখালীতে এসব পণ্যের যে চাহিদা, তার সরবরাহ নেই। সরকার যেহেতু জীবাণুনাশক পণ্য শুল্কমুক্ত করেছে, তাই প্রতিটি কোম্পানির সেভাবে তৈরি করা দরকার। এখন সরবরাহ পর্যাপ্ত পেলেই দোকানগুলো জনগণকে সরবরাহ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ‘করোনার এই মুহূর্তে ফার্মেসির লোকজন, মানে আমরা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের সুরক্ষার জন্য কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই। বিষয়টি সরকারের নজরে আনা উচিত বলে মনে করি।’

জানতে চাইলে জেলা ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. মহিদ ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে জীবাণুনাশক পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’