পিসিআর ল্যাব স্থাপন ও সহায়তা বাড়ানোর দাবি

সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য দ্রুত পিসিআর ল্যাব স্থাপন ও জেলার ত্রাণসহায়তা তিন গুণ করার দাবি জানিয়েছে নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সভা থেকে এসব দাবি জানিয়েছেন মঞ্চের নেতারা।
সাতক্ষীরা শহরের শহীদ নাজমুল সরণির নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের কার্যালয়ে সভাপতি আইনজীবী ফাহিমুল হকের সভাপতিত্বে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে জেলার গরিব, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের তালিকা করে পরিবারের লোকসংখ্যা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে ত্রাণ বিতরণ ও দীর্ঘমেয়াদি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার সুপারিশ করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী নেতারা সবাইকে বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোনো মানেই নিজ ও পরিবারের জীবন হুমকির মুখে ফেলা।
বক্তারা বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্বশেষ জেলা সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা ও গদ্মপকুর থেকে খুলনা ও যশোরের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। সড়কপথই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো নয়। এ অবস্থায় করোনা পরীক্ষার জন্য ও চিকিৎসা নিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ফলে করোনা শনাক্তকরণের জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, পিসিআর ল্যাব স্থাপন হলে সাতক্ষীরা জেলার ২২ লাখ মানুষ ছাড়াও খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলাসহ যশোরের একাংশের মানুষ এখানে নমুনা পরীক্ষার সুযোগ পাবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনঘেঁষা এ জেলার মানুষের বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অনেকের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। বছর বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। বড় ধরনের কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি এ জেলায়। ফলে সাতক্ষীরা জেলায় বসবাসকারী মানুষের বড় অংশ দরিদ্র। প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ দেশ ও বিদেশে ইটভাটায় কাজ করেন। ভোমরা বন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক বেকার, দুগ্ধ ও পোলট্রিশিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিক্রি না থাকায় সবজির মূল্যও নিম্নমুখী। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল কাঁকড়া আহরণকারীরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় দেশের পশ্চাৎপদ এ জেলায় মানুষদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা বাড়িয়ে তিন গুণ করার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এ সময় বোরো ধান কৃষক যাতে ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারেন, এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়, কৃষক ধান ঘরে তুলতে না পারলে সমস্যা আরও বাড়বে।
সভায় বক্তব্য দেন নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সহসভাপতি প্রকৌশলী আবিদুর রহমান, স্বপন কুমার শীল, সুধাংশু সরকার, ওবায়দুস সুলতান, সুভাষ সরকার, মো. ইদ্রিস আলী, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, আইন সম্পাদক আইনজীবী ইকবাল লোদী, সহসাধারণ সম্পাদক রওনাক বাসার, সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম ফেরদৌস প্রমুখ। সভা চলাকালে সশরীরে অনুপস্থিত সংগঠনের সদস্যদের মুঠোফোনে কনফারেন্সের মাধ্যমে মতামত ও বক্তব্য নেওয়া হয়।