চট্টগ্রামে শনিবার থেকে করোনা শনাক্ত করবে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যায়

চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষার দুয়ার আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এবার এই কাজে যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। কাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। শনিবার থেকে পুরোদমে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশের কাছে এ সংক্রান্ত একটা লিখিত নির্দেশনা আসে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, দুর্যোগময় মুহূর্তে আপনার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিও -১৯ নমুনা, পিসিআর টেস্ট কিট ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা দেবে। এ বিষয়ে পরিচালক (স্বাস্থ্য) চট্টগ্রামের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌতম বুদ্ধ দাশ প্রথম আলোকে বলেন, অনুমতি পাওয়া গেছে। আগামীকাল পিপিই, কিট ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে তুলে দেবেন উপমন্ত্রী। শুক্রবার ট্রায়াল হবে। এর পর শনিবার থেকে পুরোদমে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।
ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক বায়োসেফটি ও পিসিআর পরীক্ষাগার রয়েছে। তাদের রয়েছে ৬টি পিসিআর মেশিন। এ ছাড়া দক্ষ জনবল রয়েছে। তাদের ল্যাবে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষার বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলে আসছে।
করোনা মোকাবিলায় গঠিত স্বাচিপের সমন্বয় কমিটির বিভাগীয় সমন্বয়ক আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার রয়েছে। কিছুদিন ধরে এখানে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার বিষয়ে নানাদিক থেকে চেষ্টা চলছিল। এখন অনুমতি মিলেছে। এতে বিআইটিআইডির ওপর চাপ কমবে। শনাক্তকরণের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক সায়েন্স বিভাগও চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিআইটিআইডিতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এক হাজার ৭২১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ৩৯ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। বিআইটিআইডিতে এখন নমুনার জট তৈরি হয়েছে। ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হলে তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস। বিশ্ববিদ্যালয় বিআইটিআইডি থেকে নমুনা নিয়ে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করবে। প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি পিসিআর মেশিন ব্যবহার করবে। এর পর প্রয়োজনে মেশিন বাড়াবে। শনাক্তকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জনের একটি দল কাজ করবে। নমুনা সবসময় বিআইটিআইডি থেকে নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিন হাজার কিট চাওয়া হয়েছে। আপাতত বিআইটিআইডি থেকে কিছু কিট দেওয়া হচ্ছে। তারা এটা দিয়ে কাজ শুরু করবে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজেও করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব তৈরি হয়েছে। পিসিআর মেশিনও বসেছে। কিট পাওয়া গেলে সেখানেও পরীক্ষা শুর হবে বলে জানা গেছে।