বগুড়ায় ফোন বন্ধ করে পালানো করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে

আইসোলেশনে নেওয়ার আগেই মুঠোফোন বন্ধ করে পালানো বগুড়ার সেই ‌করোনা পজিটিভ ব‍্যক্তির সন্ধান মিলেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁকে শহরের ভাড়া বাসায় খুঁজলেও তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে পালিয়ে ছিলেন গ্রামে।

গতকাল বুধবার রাত নয়টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ওই ব‍্যক্তিকে আটক করে বগুড়া সদর থানার পুলিশ। পরে সেখানেই কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) রাখা হয়। এ ঘটনায় ওই বাড়িসহ আশেপাশের বাড়ি লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে। এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় শহরের ফুলতলা এলাকায় ওই ব্যক্তির ভাড়া বাসা খুঁজে বের করে চারটি বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শুনে বাড়িপালানো সেই ব‍্যক্তি পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী বগুড়ার একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী আতঙ্কে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। এ জন্য তিনি শহরের বাসা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করতে বাধ্য হন।

বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানার ভাষ‍্যমতে, করোনা পজিটিভ নিশ্চিত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার বাসা থেকে পালিয়ে ওই ব‍্যক্তি একটি গ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করেন। গতকাল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই ব্যক্তিকে সেখানেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তি ঢাকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ১০ এপ্রিল তিনি বগুড়া শহরে তাঁর ভাড়া বাসায় আসেন। ঢাকাফেরত হওয়ায় ২৬ এপ্রিল তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে গিয়ে নমুনা দেন। ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় জানা যায়, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ফোন বন্ধ করে ভাড়া বাসা থেকে পালিয়ে যান।