পুলিশ কর্মকর্তাকে বাসা ছাড়তে বাড়িওয়ালার চাপ

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম নাজমুল হক। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর থানার পরিদর্শকের (অপারেশন) দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল শনিবার রাতে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন তিনি। তাঁর মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে—এ আশঙ্কায় বাড়ির মালিক তাঁকে বাসা ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছেন।

নাজমুল হক অভিযোগ করেন, গত ১১ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বাজারপাড়ার বাসিন্দা রতনের বাড়ির দোতালা ভাড়া নেন তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি এ বাসাতেই থাকেন। শুরুর দিকে বাড়িওয়ালা তাঁর পরিবারের সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। মাস দেড়েক ধরে তাঁরা বিভিন্ন অজুহাতে অসদাচরণ করতে শুরু করেন। ঘরের দরজার সামনে ময়লা–আবর্জনা ফেলে রাখেন। আবার সেসব ময়লা-আবর্জনার জন্য তাঁদের গালমন্দ করেন। ছাদে কাপড় শুকাতে যেতে দেখলেই দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বাড়ির শিশুদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন।

এ বিষয়ে জানতে বাড়িওয়ালা রতনের মুঠোফোনে কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও ওই বাড়ির মালিক দুই পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ঘরছাড়া করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, এই সংকটে দেশের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্যসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন জীবনের মায়া ছেড়ে জাতির সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। দেশে বিদ্যমান ‘সংক্রামক রোগ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী এমন আচরণ শাস্তিযোগ্য অরপরাধ। কেউ এই আইন অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।