তাঁরা একই দিনে আক্রান্ত, সুস্থ হলেন একই দিনে

দুজনই চিকিৎসক। কর্মরত একই হাসপাতালে। দুজনেরই করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ধরা পড়েছিল একই দিনে। সুস্থ হয়ে তাঁরা বাড়িও ফিরলেন একই দিনে।
করোনা জয় করা এ দুই চিকিৎসক আজহারুল ইসলাম ও ধ্রুব সাহা রায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর দুজন এই হাসপাতালে যোগ দেন। আজাহারুলের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দায়। ধ্রুবর বাড়ি নেত্রকোনা শহরে।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে থেকে গত শনিবার বিকেলে তাঁরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতাল ছাড়ার আগে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং করোনাজয়ী ওই দুই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল থেকে হালকা কাশি, গলাব্যথা ও পাতলা পায়খানা দেখা দেয় ধ্রুব সাহার। এক দিন পর সহকর্মী আজাহারুলেরও একই রকম অবস্থা। ১৮ এপ্রিল তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ২১ এপ্রিল বিকেল পাঁচটায় মুঠোফোনে কল আসে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারের। দুই চিকিৎসককে তিনি জানান, তাঁরা করোনা পজিটিভ।
তবে পজিটিভ শব্দটি শুনে ভীত বা ভেঙে পড়েননি দুই চিকিৎসক; বরং মনোবল শক্ত রাখেন। পরীক্ষার ফলাফল জানার সময় ধ্রুব নেত্রকোনায় নিজ বাসায় ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাবাকে ফোন করে নেত্রকোনা শহরে নিজেদের ওষুধের দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে আসতে অনুরোধ করেন। তারপর বাবা-ভাই ও দোকানের কর্মচারীদের বাসায় কোয়ারেন্টিনে রেখে নিজের কর্মস্থলের আইসোলেশনে চলে যান। আর আজাহারুল কর্মস্থলের কোয়ার্টারেই ছিলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ সেখানে আইসোলেশনে থেকে পরপর দুবার নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত না হওয়ায় তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
আজাহারুল ও ধ্রুব প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাঁদের কৃতজ্ঞতা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুপ্রেরণা আর ভালোবাসায় তাঁরা করোনাকে জয় করেছেন। তাঁরা আরও জানান, আইসোলেশনে থাকাকালে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেয়েছেন। গরম পানি, ভিটামিন সি–যুক্ত খাবার, চা–ও বেশি খেয়েছেন। গোসল করেছেন গরম পানি দিয়ে। কিছু ওষুধও খেতে হয়েছে। তাঁরা করোনায় কোনো ধরনের ভয় বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন।