করোনার পরীক্ষা কমলেও নতুন রোগী শনাক্ত বাড়ছে

আগের তুলনায় পরীক্ষার সংখ্যা কমে এলেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা আবার বাড়ছে। পরীক্ষা কিছুটা বাড়তে থাকায় গত টানা তিন দিন নতুন শনাক্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষার তুলনায় পজিটিভ বা আক্রান্ত শনাক্তের হারও বেড়ে গেছে।

টানা ১৩ দিন পর গতকাল বুধবার এক দিনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) ৩ হাজার ৫৩৩ জনের দেহে কোভিড-১৯–এর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২ জুলাই এক দিনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানানো হয়েছিল।

কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ এবং উপসর্গ দেখে নমুনা নেওয়ার কারণে চলতি মাসের শুরু থেকে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে গেছে। ৩ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এখন সেটা সাড়ে ১৪ হাজারের নিচে নেমেছে।

পরীক্ষা কমায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যাও কমতে শুরু করে। ফলে সংক্রমণের লেখচিত্র বা গ্রাফ দেখে মনে হবে দেশে সংক্রমণ কমছে। কিন্তু সংক্রমণ শনাক্তের হার কমেনি, বরং বেড়ে গেছে।

তিন দিন ধরে নতুন রোগীর সংখ্যাও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। গত তিন দিনে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে যথাক্রমে ৩ হাজার ৯৯, ৩ হাজার ১৬৩ ও ৩ হাজার ৫৩৩ জন। এর আগে রোববার শনাক্ত ছিল ২ হাজার ৬৬৬ জন। অবশ্য এই তিন দিন ধরে আগের কয়েক দিনের তুলনায় পরীক্ষাও ক্রমে কিছুটা বেড়েছে। পরীক্ষা কমার পর থেকে সংক্রমণ শনাক্তের হারও বেড়ে গেছে। 

গতকাল নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩ হাজার ৫৩৩ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ছিল ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৯০ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জনসহ মোট ২ হাজার ৪৫৭ জন মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৩ জন।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, যাঁরা বয়স্ক এবং অন্য সংক্রামক রোগে আক্রান্ত, তাঁদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, করোনায় তাঁদের ঝুঁকি বেশি। তাঁদের সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে এবং চিকিৎসকের সব পরামর্শ ও নিয়ম মেনে চলতে হবে।