কান পাতলেই শোনা যায়...

চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু। সোমবার দুপুর ১২টা। অন্য সময়ের মতো যাত্রীর ব্যস্ততা, কুলিদের হাঁকডাক নেই। গজরাতে গজরাতে মধ্যবয়স্ক এক লোক বাস থেকে নেমে এলেন। ‘মগের মুল্লুক ফাইয়ুসযে না তোরা। ট্যায়া কি কর্ণফুলীদে বাআই আইয়ে না?’ (মগের মুল্লুক পেয়েছিস নাকি তোরা? টাকা কি কর্ণফুলীতে ভেসে আসে?)
লোকটির নাম মো. হারুন। অভিযোগ, পটিয়া থেকে ২৫ টাকার ভাড়া নিয়েছে ৪০ টাকা। কী হয়েছে জানতে চাইতেই ক্ষোভ ঝাড়লেন, যেন বাসের সহকারী কিংবা কর্তৃপক্ষ তাঁর সামনে দাঁড়ানো, ‘২০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা নিতে পারে। কিন্তু ৪০ টাকা কীভাবে নেয়? সরকার নাকি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের বেতন কি সরকার বা মালিক বাড়িয়েছে? উল্টো চাকরি চলে যাচ্ছে। বেতন কমছে।’
বাসে কি যাত্রী কম ছিল? এমন প্রশ্নে আরও ঝাল ঝাড়লেন হারুন, ‘সিটে তো নিয়েছেই, পারলে মাথার ওপরও তুলেছে। এর নাম নাকি স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রী আগের মতো তুলছে, ভাড়াও ডাবল। মানুষের পকেট কাটার ব্যবস্থাটা করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।’
এ রকম শত শত অভিযোগ যাত্রীদের। আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী থেকে নতুন ব্রিজের ভাড়া ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা। এখন তা ৩০ টাকার কম না। যার কাছ থেকে যেভাবে পারে ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের। ভাড়া নিয়ে নানা কথা চলছেই। পাশাপাশি চাকরি নিয়ে হা-হুতাশ কান পাতলেই শোনা যায়। পথের মোড়ে মোড়ে বিষণ্ন অনাহারী চেহারার নারী-পুরুষ। কেউ ছোটখাটো কাজ খুঁজছেন। আবার কেউবা আগের পেশা হারিয়ে পান-বিড়ি কিংবা সুরক্ষা সরঞ্জাম ফেরি করছেন। চাকরিহারা অনেকে রিকশার প্যাডেলে পা রেখেছেন।
সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) নগরের দুটি পাহাড়তলী ও বকশিরহাট ওয়ার্ডে জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, ১৮ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ দিনমজুর, ১২ ভাগ পরিবহনশ্রমিক, ১১ ভাগ ছোট ব্যবসায়ী ও ৩ ভাগ পোশাকশ্রমিক। তাঁদের অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।
ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কোভিডের কারণে নতুন করে দরিদ্র শ্রেণি তৈরি হয়েছে। সংখ্যাটি ১৫ শতাংশের কম নয়। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কাজের ক্ষেত্রগুলো বন্ধ রয়েছে। সরকার কিংবা বিভিন্ন সংস্থা যেসব ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে, তাতে তাদের এক বা দুই সপ্তাহ চলেছে। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে অনেক দিন সময় লাগবে।
‘অন্যরা জানে না রিকশা চালাই’
নোয়াখালীর যুবক মো. সাগর চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আছেন। কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি বাসায় কয়েকজন মিলে থাকেন। সঙ্গের সাথি সবাই টাইলস মিস্ত্রি। সাগরও টাইলসের কাজ করতেন। মার্চে কাজ কমে যায়। এপ্রিলে কাজ পুরোপুরি বন্ধ হলে দিশাহারা হয়ে পড়েন তিনি। এখন বাড়িতে টাকা পাঠানো দূরে থাক, নিজের পেট চালানো দায়। সাগর তাই পথে নেমেছেন। ‘কাজ নেই। একটি রিকশা ভাড়া নিয়ে নেমে পড়ি। কিন্তু রিকশা চালানো যে কষ্ট, তা প্যাডেলে পা রাখার পর বুঝলাম’, বললেন সাগর।
সাগরের সঙ্গে দেখা হয় গত রোববার কর্ণফুলী মেরিনার্স সড়কের কোনায়। জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। তখন বিকেল পাঁচটা। সুদর্শন এই যুবক ভাত খেয়ে দুপুরে রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। তখন পর্যন্ত ১০০ টাকার মতো ভাড়া মেরেছেন। তাঁর সঙ্গী টাইলস মিস্ত্রিরা এখন কী কাজ করছেন জানতে চাইলে সাগর বললেন, ‘সেটা জানি না। আমি রিকশা চালাই, এটা তারা জানে না। অনেকে এটাকে ছোট কাজ হিসেবে দেখে। তাই বাসার ওদিকে যাই না। এখন দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি পাই না।’
রাজমিস্ত্রির কাজ ছেড়ে রিকশা নিয়ে নেমে পড়েছেন এহসানুল হক। এহসানুলের বাড়ি সিলেটে। চট্টগ্রামে থাকেন প্রায় ১০ বছর। তিনি বলেন, ‘বউ-বাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এখন কেউ দুই টাকা ধারও দেয় না। তাই রিকশা চালাই। মালিককে সারা দিনে ১০০ টাকা দিতে হয়। ভাড়া আগের চেয়ে কমে গেছে। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ।’
বেড়েছে বিক্রেতা, নেই ক্রেতা
নগরের সিআরবি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বসে চা বিক্রি করতেন আসমা বেগম। লকডাউন শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ ধরে তিনি আবার চা বিক্রি শুরু করেছেন। কিন্তু এখন এসে দেখেন বিক্রেতা বেড়ে গেছে। আগের মতো ক্রেতা নেই।
আসমা বলেন, মানুষ যাবে কোথায়? পেটে ভাত নেই। চলতে পারে না। তাই কিছু একটা করে বাঁচতে চায়। তাঁর পাশে হোসনে আরা নামের এক নারী চা বিক্রি করছেন। তিনি আগে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। করোনাকালে চাকরিটা চলে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে এখন নতুন পেশা শুরু করেছেন। ‘ঘরে মা-বোনসহ চারজন আছি। ঘরভাড়া দুই হাজার টাকা। তার ওপর খাওয়া খরচ আছে। আরেক বোন চাকরি করত। তারও চাকরি চলে গেছে। তাই চায়ের কেটলি নিয়ে এখানে বসেছি। দুই-এক পয়সা পাই’, বললেন হোসনে আরা।
মিনু দাশ আগে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ঘরে তাঁর একমাত্র ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। মাসে দুই হাজার টাকা ঘরভাড়া আর খাওয়াদাওয়া, সব মিলিয়ে ছয়-সাত হাজার টাকা খরচ। মার্চের শুরুর দিকে গৃহকর্মীর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অথৈই সাগরে পড়েন গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা মিনু। এখন তিনি কেটলি কিনে চা বিক্রি শুরু করেছেন সিআরবি এলাকায়। সঙ্গে বিড়ি-সিগারেটও।
সিআরবি এলাকায় পান-সিগারেট বিক্রেতা আরেক নারীকে পাওয়া গেল। তাঁর নাম মর্জিনা বেগম। রেলওয়ে স্কুলের পাশে বাসা। বড় মেয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এখন চাকরি চলে গেছে। মর্জিনা বাবুর্চির সঙ্গে মসলা বাটার কাজ করতেন।
প্রতিবন্ধীদের দুঃখ বেড়েছে
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মোর্শেদা আকতার নগরের হামজারবাগে এক স্বজনের বাসায় টাকা দিয়ে থাকতেন। তিনি সরকারি সিটি কলেজের স্নাতকে পড়েন। লকডাউন শুরু হওয়ার পর টাকাপয়সার টানাটানিতে তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গ্রামের বাড়ি চলে যান। তাঁর দুই বোনও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তারা এবার এসএসসি পাস করেছে। সামনে তাদের ভর্তিসহ নানা খরচ। কোথা থেকে আসবে ভেবে কূল পান না মোর্শেদা। বলেন, ‘মা খেতখামার করেন। মুরগি পোষেন। তা থেকে আসা আয় আর স্বজনদের সহযোগিতায় চলতাম আমরা। তিন বোনের প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়ে আমি শহরে পড়তাম। লকডাউনের সময় টানাটানিতে পড়ে গেছি। তাই বাড়িতে চলে আসি। কিছু ত্রাণ পেয়েছি। মা-ও অসুস্থ।’
পরশ নামে একটি প্রতিবন্ধীদের সংগঠন রয়েছে চট্টগ্রামে। তাতে ১১০ জন বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সদস্য হিসেবে আছেন। পরশের সভাপতি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, অনেক প্রতিবন্ধী এখন কষ্টের দিন পার করছেন। করোনাকালে তাঁরা তেমন সহযোগিতাও পাননি।
পরশের সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ইতিহাসের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফারজানা আকতার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর দুই ভাই ও মা-ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ফারজানা এখন তাঁদের গ্রামের বাড়ি ফেনী চলে গেছেন। তিনি অনেক কষ্টে দিন পার করছেন।
সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রি করছেন তাঁরা
একটা লাঠিতে মাস্ক, টুপি আর গ্লাভস বেঁধে ফেরি করে বেড়াচ্ছে ১৩-১৪ বছরের কিশোর রিফাত। সে বউবাজার এলাকায় থাকে। নগরের আন্দরকিল্লা নিউমার্কেট এলাকায় সে এক মাস ধরে সুরক্ষা সরঞ্জাম ফেরি করে চলেছে।
রিফাত বলে, ‘আগে একটি ছাপাখানায় মেশিন মোছার কাজ করতাম। এখন ছাপাখানা বন্ধ হয়ে গেছে। পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে এ কাজে নামি। ঘরে মা ও ছোট ভাই। আমি টাকা নিয়ে ঘরে ফিরলে চুলা জ্বলে।’ কখন যে এই কষ্টের দিন শেষ হবে, এই ভাবনা করতে করতে মাস্ক, গ্লাভস হাঁক দিতে দিতে এগিয়ে যায় রিফাত।
মো. সোহেল বিশ্বকলোনি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে বটতলী নতুন স্টেশনের পাশে ফুটপাতে পুরোনো মুঠোফোন, হেডফোন ইত্যাদি বিক্রি করতেন। সেই ব্যবসা এখন নেই। বাধ্য হয়ে এখন মাস্ক, টুপিসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে বসেছেন। কিন্তু তাতেও আশার আলো নেই। আক্ষেপ করে সোহেল বলেন, ‘শুরুতে লাভ ভালোই হতো। এখন তা নেই। সবাই এখন মাস্ক বিক্রি করছে। লাভ থাকবে কোত্থেকে।’
বাসাভাড়ার জন্য তাগাদা
চাক্তাই ভেড়া মার্কেটের পাশে বস্তিতে বসবাস আয়েশা বেগমের। তাঁর দুই ছেলে। একজন গাড়ির মেকানিক। আরেকজন ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ করেন। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে গেছে চার মাস। ফলে ঘরভাড়া বকেয়া পড়ে রয়েছে। আয়েশা বেগম বলেন, ‘তিন মাসের ঘরভাড়া দিতে পারিনি। বাড়িওয়ালা বারবার তাগাদা দিচ্ছেন। নইলে চলে যেতে বলেন। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। এ পর্যন্ত চার হাজার টাকা ধারদেনা করেছি।’
কাজীর দেউড়ি এলাকার সেলুনের দোকানি বাদল শীল বলেন, ‘এখন নিজের দাড়ি নিজে কামানো ছাড়া কোনো কাম নাই। ধারদেনায় চলছে সংসার। ঘরভাড়া দিতে পারি না। অথচ একসময় জমজমাট ছিল আমার দোকান। কবে আবার সুদিন আসবে জানি না।’
গৃহকর্মী রহিমা বেগমও বাসাভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিমান অফিস এলাকার এই বাসিন্দা জানান, তাঁর স্বামী রিকশা চলান। তিনি গৃহকর্মী ছিলেন। কিন্তু এখন কাজ বন্ধ। স্বামীর আয়ও তেমন নেই। করোনার সময় কিছু ত্রাণ পেয়েছিলেন। তাতে তাঁদের কদিন চলেছে। লকডাউনে একদিন রিকশা বের করায় পুলিশ পিটিয়েছে তাঁর স্বামীকে। এখন ঘরবন্দী। এ অবস্থায় বাসার তিন মাসের বকেয়া ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন।
কষ্টে পরিবহনশ্রমিকেরাও
পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী, এখন যানবাহন চলছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। বাকিগুলো বসে আছে। অর্ধেকর বেশি শ্রমিক এখন বেকার।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসের সহকারী ছিলেন মো. মামুন। তিন মাস ধরে তিনি বেকার। এরপর রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় ফলের ভ্যানে একজনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তাতে কিছু টাকাপয়সা জোটে। মামুন বলেন, ‘চোখে অন্ধকার দেখছি। কী করব বুঝতে পারছি না। নতুন এই কাজও সুবিধার নয়। কিন্তু কিছু করার নেই।’
দক্ষিণ চট্টগ্রামে পরিবহন রুট রয়েছে ২০টি। উত্তরে রুট পাঁচটি। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে রুট রয়েছে প্রায় ৬৮টি। হাজার হাজার শ্রমিক এসব রুটে কাজ করেন। লকডাউন শিথিল হওয়ার পর কিছু গাড়ি চলাচল শুরু করেছে। তবে তাতে সব পরিবহনশ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা হয়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মো. মুছা বলেন, অনেক শ্রমিক এখন বেকার। এই অবস্থায় কিছু কিছু বাসমালিক শ্রমিকদের সপ্তাহে দুই-তিন দিন করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাজ দিচ্ছেন, যাতে সবাই কাজ পান। এর বাইরে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে অন্য অনেক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু কোথাও কাজ নেই।
শহর এলাকার বাসের শ্রমিক রফিক এখন রিকশা চালান। লকডাউন শুরু হওয়ার পর তিনি প্রথম কদিন বসে ছিলেন। এরপর একটু শিথিল হওয়ার পর রিকশা চালানো শুরু করেন। রফিক বলেন, ‘বউ-বাচ্চা নিয়ে সত্যি না খেয়ে ছিলাম। তখন কান্না করেছি কিছু করতে না পেরে। কিছু ত্রাণ পেয়েছিলাম। এরপর উপায় না দেখে রিকশা নিয়ে নামি। তবে খুব পরিশ্রম।’
রিকশা ও সিএনজির মালিকেরা এখন দৈনিক ভাড়া কমিয়ে দিয়েছেন। রিকশা ভাড়া ১৪০ টাকা থেকে কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় চলে এসেছে। আর সিনএনজি অটোরিকশা দৈনিক ৯০০ টাকা থেকে নেমে এখন ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় ঠেকেছে। তারপরও অনেক সিএনজি বসা রয়েছে বলে জানান সিএনজি অটোরিকশা সাধারণ মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন।
মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মালিক-শ্রমিক কেউ ভালো নেই। অনেক গাড়িচালক গ্রামে চলে গেছেন। অনেকে সবজি বিক্রিতে লেগে গেছেন। গাড়ি বসে থাকতে থাকতে মরিচা পড়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু গাড়ি চলাচল শুরু হলেও তা মাত্র ৩০ শতাংশ। চালকেরা দিনে ৩০০ বা ৪০০ টাকার বেশি দিতে রাজি নন। কীভাবে তাঁরা চলবেন, কীভাবে আমরা চলব, জানি না।’