ভবনের সীমানা নিয়ে বিরোধে ভাইয়ের লোহার পাইপের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু

মাগুরায় ভবনের সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভায়ের লোহার পাইপের আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহরের কাউন্সিল পাড়ায় নিজেদের নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় হামলায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
মৃত ব্যক্তির নাম খন্দকার রফিকুল হাসান ওরফে পিন্টু খন্দকার (৪৫)। আর তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন তাঁরই আপন বড় ভাই খন্দকার মঞ্জুরুল হাসান ওরফে রিন্টু খন্দকার। তাঁদের বাবার নাম মৃত আমিনুর হাসান।
নিহত ব্যক্তির পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউন্সিল পাড়ার ম্যাটারনিটি হাসপাতাল রোডে পাশাপাশি দুটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। এর একটি খন্দকার মঞ্জুরুল হাসানের, আরেকটি খন্দকার রফিকুল হাসানের। বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার সেখানে একটি ভবনের কোনার একটি অংশ ভাঙা নিয়ে দুই ভায়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ওই সময় খন্দকার রফিকুল হাসানের ভবনে কাজ করছিলেন কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক। তাঁদের একজন ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাগুরা সদর উপজেলার বারাশিরা গ্রামের আরজান হোসেন জানান, ছাদ ঢালাইয়ের জন্য খন্দকার মঞ্জুরুল হাসানের ভবনের কয়েক ইঞ্চি জায়গা ভাঙা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষিপ্ত হন তিনি। এ সময় সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলে ছোট ভাই খন্দকার রফিকুল হাসানকে লোহার রড বাঁকানোর কাজে ব্যবহৃত মোটা পাইপ দিয়ে পেটে আঘাত করেন তাঁর বড় ভাই। এরপর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তির মেয়ে খন্দকার রাইসা হাসানের অভিযোগ, তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে আমার চাচা।’ ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত খন্দকার মঞ্জুরুল হাসান। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রহমান সেলিম জানান, ‘ওই ব্যক্তিকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তিনি জীবিত ছিলেন। জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।’
এ বিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মাগুরা সার্কেল) কাজী আহসান হাবীব প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তিকে আঘাত করতে ব্যবহৃত লোহার পাইপটি জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।’