লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল মা ও মেয়ের
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎঘোনা এলাকার বাদশা মিয়ার স্ত্রী রাশেদা বেগম (৩৭) ও তাঁর মেয়ে ময়না আক্তার (১৩)। তাঁরা লোহাগাড়া উপজেলা সদরের আধুনগর বাইতুন-নূরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে আধুনগরের ঘাটিয়াপাড়া এলাকার পরিত্যক্ত একটি ডোবা থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাদশা মিয়ার মেয়ে ময়না আক্তার ভাড়া বাসার কাছাকাছি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পেছনে ঘাটিয়াপাড়ার পরিত্যক্ত একটি ডোবা থেকে কলমি ও কচুশাক তুলতে যায়। সবার অগোচরে সেখানে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। মেয়ে বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে মা রাশেদা বেগম মেয়েকে খুঁজতে বের হন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ময়না আক্তারকে সোমবার বিকেলে পরিত্যক্ত ডোবায় শাক তুলতে দেখেছেন বলে জানান। পরে রাশেদাও ডোবায় যান। সেখানে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ সারোয়ার জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ওই এলাকায় এক ব্যক্তি অবৈধভাবে লাইন টেনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন। বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ওই লাইনের তার ছিঁড়ে গিয়ে ডোবায় পড়ে ছিল। সেই ছেঁড়া তারে জড়িয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা চাইলে লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। না চাইলে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।