
রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলায় অংশ নেওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ঋণ দিচ্ছে। মেলা উপলক্ষে গৃহঋণের সুদহার ও ঋণ প্রক্রিয়াকরণে (প্রসেসিং) দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের গৃহঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিহ্যাব আবাসন মেলার তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মেলায় পাঁচটি ব্যাংক ও পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের ঋণ দিচ্ছে। সে জন্য তাদের স্টলে খোঁজখবর নিচ্ছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।
গত বুধবার শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এ মেলা শেষ হবে কাল রোববার। মেলার আয়োজক ও অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের মেলার প্রথম তিন দিনে অন্য বছরের তুলনায় বেশ ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।
রিহ্যাবের মিডিয়া কমিটির কো-চেয়ারম্যান কামাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, আবাসন ব্যবসায় যে মন্দাভাব চলছে, এবারের মেলা দিয়ে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ক্রেতাদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা পেলে সবার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং ডেলটা ব্র্যাক হাউজিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড, আইডিএলসি, লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল হাউজিং।
দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ (আইপিডিসি) নাম পরিবর্তন করে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড নামে ব্যবসা শুরু করেছে। আইপিডিসি ফাইন্যান্স মেলায় ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। মেলা উপলক্ষে ঋণ প্রক্রিয়াকরণে কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। ঋণের সঙ্গে বিনা মূল্যে লাইফ ও প্রোপার্টি ইনস্যুরেন্স দিচ্ছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। গৃহঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই।
আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস টিম ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গৃহঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই। অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের বিশেষত্ব এখানেই। মেলায় বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স ব্যক্তি পর্যায়ে সুদে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দিচ্ছে। মেলায় আইডিএলসি ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। ফ্ল্যাটের মূল্যের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে আইডিএলসি। ফ্ল্যাট নিবন্ধনের জন্যও বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে আইডিএলসি। ন্যাশনাল হাউজিং সর্বোচ্চ ২০ বছরের জন্য গৃহঋণ দিচ্ছে। বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের পাশাপাশি বাড়ি নির্মাণ, সংস্কার বা প্লট ক্রয়েও ঋণ দিচ্ছে ন্যাশনাল হাউজিং।
একটি স্টলে গৃহঋণের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন বেসরকারি চাকুরে মাহমুদুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সুদহার এক অঙ্কের হলেও বেতনের তুলনায় মাসিক কিস্তির পরিমাণ অনেক বেশি। মধ্যবিত্তদের জন্য আরও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়।
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলো ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দিচ্ছে। ঋণের মেয়াদ ব্যাংক ভেদে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত। মেলা উপলক্ষে ব্যাংকগুলো ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।
মেলায় ব্র্যাক ব্যাংক ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদহারে গৃহঋণ দিচ্ছে। মেলায় ঋণ প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করলে গৃহঋণের এই সুদহার ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
দ্য সিটি ব্যাংক ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। তাদের ঋণ পেতে চাকরিজীবীদের ন্যূনতম মাসিক আয় ৩০ হাজার ও ব্যবসায়ীদের ৪০ হাজার টাকা হতে হবে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক মেলায় ৯ শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে। ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মেলা উপলক্ষে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে গৃহঋণ দিচ্ছে। মেলায় ঋণ প্রক্রিয়া শুরু করলে এই সুদহারের সুবিধা ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।