এবার কানের উৎসব মাতাচ্ছেন বন্দী নির্মাতারা

লেতোর প্রদর্শনীর আগে নির্মাতা কিরিল সেরেব্রেন্নিকভের নামের প্ল্যাকার্ড হাতে লালগালিচায় উৎসব–পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমোর (ডানে) সঙ্গে ছবির শিল্পীরা। গত বুধবার, কানে।  রয়টার্স
লেতোর প্রদর্শনীর আগে নির্মাতা কিরিল সেরেব্রেন্নিকভের নামের প্ল্যাকার্ড হাতে লালগালিচায় উৎসব–পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমোর (ডানে) সঙ্গে ছবির শিল্পীরা। গত বুধবার, কানে। রয়টার্স

প্রতিযোগিতা বিভাগের ছবি ‘লেতো’র প্রদর্শনী কানায় কানায় পূর্ণ। ফাঁকা শুধু একটি সিট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির বসার কথা এখানে। কিন্তু তিনি অনেক দূরে। কথা হচ্ছে রুশ নির্মাতা কিরিল সেরেব্রেন্নিকভের। ইরানের জাফর পানাহির মতো এ উৎসবের আরেক ‘গৃহবন্দী’ নির্মাতা। রাশিয়ায় তিনি গৃহবন্দী গত ২২ আগস্ট থেকে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় পালে দ্য ফেস্তিভালের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে হয়ে গেল কিরিলের ‘লেতো’ বা ‘সামার’ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী।

তবে উৎসবে না এলেও কিরিল সেরেব্রেন্নিকভই ছিলেন উৎসবজুড়ে। তাঁর নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে লালগালিচায় দাঁড়িয়েছিলেন ‘লেতো’ ছবির শিল্পী ও প্রযোজক। এমনকি উৎসবের প্রধান থিয়েরি ফ্রেমোও।

কিরিলকে গৃহবন্দী করার পেছনে রুশ সরকারের অভিযোগ, তিনি সরকারি কোষাগারের প্রায় ৬৮ মিলিয়ন রুবল বেআইনিভাবে অলাভজনক এক মঞ্চ প্রযোজনার পেছনে ব্যয় করেছেন। বন্দী হওয়ার আগেই লেতোর শুটিং শেষ হয়েছিল। কিরিল ছবিটি সম্পাদনা করেন গৃহবন্দী অবস্থায়, নিজের বাসায়। গতকাল সকালে ছবিটির সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লেতোর রুশ প্রযোজক ইলিয়া স্তুয়ার্ত।

প্রদর্শনীর স্বাগত বক্তব্যে উৎসব প্রধান থিয়েরি ফ্রেমো বলেন, কিরিলকে উৎসবে আসার অনুমতি দিতে তিনি একটি চিঠি লিখেছিলেন। সম্প্রতি তার জবাব দিয়েছেন স্বয়ং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায়বিচারে সেরেব্রেন্নিকভের কিছু সমস্যা আছে। আমি আপনাদের (উৎসব কর্তৃপক্ষ) সাহায্য করতে চাই। কিন্তু আদালত তো স্বাধীন।’

থিয়েরি ফ্রেমোর মুখ থেকে ভ্লাদিমির পুতিনের এই জবাব শুনে হাসির রোল পড়ে যায় গ্র্যান্ড লুমিয়ের থিয়েটারে। একই অবস্থা হয় সংবাদ সম্মেলনেও।

ধারণা করা হচ্ছে, পুতিনবিরোধী হওয়ায় এবং রুশ মঞ্চে সমকামের মতো স্পর্শকাতর বিষয় তুলে আনায় বানোয়াট অভিযোগটি এনে কিরিলকে গৃহবন্দী করা হয়েছে।

কানের প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘লেতো’র অংশগ্রহণের ব্যাপারে কিরিল কিছু বলেছেন কি না, তা নিয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ছবির প্রযোজক ইলিয়াকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশের কারণে কিরিল বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এত বড় আয়োজনে যাঁর ছবি লড়াই করছে, তাঁর আবেগ-অনুভূতি বন্দী হয়ে আছে চার দেয়ালের ভেতরে।