সবকিছু আছে, শুধু আমার মা নেই: অর্জুন কাপুর
>

মা হারানোর যন্ত্রণা আজও কুরে কুরে খায় অর্জুনকে। এই বলিউড নায়কের আক্ষেপ, পানিপথ-এর মতো এত বড় ছবি মুক্তির সময় মা তাঁর পাশে নেই। আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত এই ছবির ‘সদাশিব ভাউ’ হয়ে ওঠার জন্য নানা প্রতিবন্ধকতা পেরোতে হয়েছে অর্জুনকে। মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে আদুরে শীত গায়ে মেখে নির্ভেজাল আড্ডা দিলেন বলিউডের নায়ক। আড্ডায় ছিলেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য।
দেবারতি ভট্টাচার্য: ‘সদাশিব ভাউ’-এর মতো ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
অর্জুন কাপুর: সব ছবিতেই কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। সব ছবির জন্যই পরিশ্রম করতে হয়। পানিপথ-এর জন্য আমাকে ন্যাড়া হতে হয়েছিল। অনেকের কাছে হয়তো এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু একজন অভিনেতার কাছে চুল তাঁর অলংকার। তাই আমার জন্য দীর্ঘদিন ন্যাড়া হয়ে ঘোরা মোটেও সহজ ছিল না। আমি পরচুলা পরতে চাইনি। চেয়েছিলাম সবকিছু বাস্তব দেখাক। আর আমি পরচুলা পরলে পেশওয়া সম্প্রদায় এবং ছবির প্রতি অন্যায় করা হতো। টানা দুমাস ভোরবেলায় আমি মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে গিয়ে ঘোড়সওয়ারি শিখেছি। আমার ঘোড়ার নাম ছিল জব্বার। ওর সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। বর্শা ছোড়া আর তলোয়ারবাজিও শিখেছি। বর্শা ছোড়ায় সদাশিব ভাউ অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। স্কুলে মারাঠি ভাষা নিয়ে পড়েছিলাম। তাই এই চরিত্রের ভাষাটা ছোটবেলা থেকেই পারি। তবে এই ভাষা বলার সময় যে আত্মবিশ্বাস থাকা প্রয়োজন, তার অভাব আমার মধ্যে ছিল। পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর আমার মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস আনতে সাহায্য করেছেন।
দেবারতি: সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন?

অর্জুন: পর্দাতে সঞ্জয় দত্তের সামনে আমাকে কেমন লাগবে, তা নিয়ে শুরুর দিকে চিন্তায় ছিলাম। তখন পরিচালক আমাকে বোঝান। তিনি বলেন, ‘সঞ্জয়ের সামনে অর্জুন নয়, আহমেদ শাহ আব্দালির মুখোমুখি হবেন সদাশিব ভাউ।’ আমাকে পরিচালক বোঝান অন্য সব ভুলে নিজের চরিত্রের প্রতি মনোযোগ দিতে। তখন আমি স্বাভাবিক হই। আমার প্রথম ছবি ইশকজাদে দেখে সঞ্জয় ও মান্যতা দত্ত আমাকে তাঁদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। আমরা দুজনে চামচ রেখে হাত দিয়ে খাবার খাচ্ছিলাম। মান্যতা দত্ত (সঞ্জয়ের স্ত্রী) বলেছিলেন, তোমরা অনেকটা একই রকম। আসলেই তা–ই। আমাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল আছে। বলিউডে অভিষেকের দুমাস আগে সঞ্জয় দত্ত তাঁর মাকে হারান। ক্যানসারে ভুগে মারা যান তাঁর মা নার্গিস দত্ত। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে আমার জীবনেও।
দেবারতি: অনেকে মনে করে যে আপনার শারীরিক গঠন আপনার সাফল্যের অন্তরায়—
অর্জুন: আমার ওজন একসময় ১৫০ কেজি ছিল। আমার ইচ্ছাশক্তির জোরেই তা ঝরাতে পেরেছি। মাঝে চোট পাওয়ার কারণে কিছুদিন ব্যায়াম করতে পারিনি। আমি কখনোই বিশ্বাস করি না যে আমার ওজন বেশি বলে ছবি চলে না। এমন অনেকে আছেন, যাঁদের বডি দুর্দান্ত কিন্তু তাঁদের ছবিও তো চলেনি। একটা ছবি বিষয়বস্তুর জন্য চলে, ওজনের জন্য নয়।
দেবারতি: সম্প্রতি আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো চিঠির ছবি দিয়েছেন, ১২ বছর বয়সে ওটা আপনি আপনার মায়ের জন্য লিখেছিলেন—
অর্জুন: আমার বোন এই চিঠিটা আমায় এনে দেয়। এই চিঠিটা পোস্ট করার পর অনেকেই তাঁদের মা–বাবাকে হারানোর যন্ত্রণার কথা শেয়ার করেন। এই মুহূর্তে আমার সবকিছু আছে, শুধু আমার মা নেই। বাড়ি ফিরে খুব অসহায় লাগে। নিজের খারাপ বা ভালো লাগার কথা বলার মতো কেউ নেই। তাই একাকিত্ব নয়, বিষণ্নতা আমায় ঘিরে ধরে। আজ আমার এত বড় একটা ছবি মুক্তি পেতে চলেছে, কিন্তু এ সময় মা আমার পাশে নেই। তাঁর অভিব্যক্তি আমি দেখতে পারি না। তাঁর মতামত থেকে আজ আমি বঞ্চিত।