মিম বললেন, প্লিজ করোনায় দাম বাড়াবেন না

তিন দিন ধরে গৃহবন্দী থাকা মডেল ও অভিনয়শিল্পী মিম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেছেন, প্লিজ আপনারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়াবেন না। শুধু দেশের নয়, পৃথিবীর এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে অবৈধ উপায়ে টাকা কামানো থেকে বিরত থাকুন। একই সঙ্গে ভোক্তাদের উদ্দেশেও বলেছেন, দয়া করে কোনো কিছুতে আতঙ্কিত হয়ে আপনারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার মজুত করে রাখবেন না। আপনার যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটাই কিনুন। গতকাল শনিবার দুপুরে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে এমন কথা বললেন মিম।

মিম সর্বশেষ লাক্সের বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং করেছেন। সামনে যেহেতু ঈদ, তাই বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের স্থিরচিত্রের মডেলিং করার কথা ছিল। সিনেমার কাজের শিডিউলও ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস সব হিসাব–নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। সবকিছু বাদ দিয়ে এখন ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন। কদিন ধরে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটেই দিন যাপন করছেন। মা-বাবাকে ঘরের বাইরেও যেতে দিচ্ছেন না। তবে কানাডায় থাকা ছোট বোনকে নিয়ে চিন্তিত। মিম বলেন, ‘পুরো পৃথিবীতে কী যে শুরু হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না। করোনাভাইরাসের গতি–প্রকৃতিও কেউ অনুমান করতে পারছেন না। বিভিন্ন খবরাখবর খবর পড়ে বুঝলাম, একেক দেশে এই ভাইরাসের আচরণ একেক রকম। খুব টেনশনের মধ্যে আছি।’
করোনাভাইরাস-আতঙ্কে যেখানে দেশের মানুষ আতঙ্কে দিন যাপন করছেন, সেখানে ব্যবসায়ীদের একটা অংশ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই তালিকায় মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও গ্লাভস যেমন আছে, তেমনি আছে চাল, ডাল, তেল, লবণ, পেঁয়াজসহ আরও নানা পণ্য। বিষয়টি মিমের নজরেও এসেছে। দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মিম বলেন, ‘এমন বিপর্যয়ে কোথায় সবাই মানবিকতার পরিচয় দেবেন, সেখানে আমাদের পরিস্থিতি উল্টো। একটা অজুহাত পেয়েই ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজনের কাছে আমার অনুরোধ, মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে জিনিসপত্রের দাম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন। আর যাঁরা এই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। এই ধরনের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোথায় আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াব, সহমর্মিতা দেখাব, উল্টো অধিক মুনাফা করার মানসিকতা নিয়ে ঘুরছি! যাঁরা এই দুঃসময়ের সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছেন, মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা যে মানুষ, এ নিয়েও আমার সন্দেহ আছে।’

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একজন মানুষের মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার খুব কাজে দেয়। মিম সবাইকে এসব ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন থাকতে অনুরোধ করেছেন। সাধারণত কাজের ব্যস্ততায় মা-বাবাকে বাসায় খুব একটা সময় দিতে পারতেন না মিম। তবে এই সময়টায় মা-বাবার সঙ্গে কাটাচ্ছেন। সিনেমা দেখছেন। বই পড়ছেন বলেও জানালেন। এই কদিন ধরে মিম দেখছেন ‘দ্য ম্যাজিশিয়ান’, ‘লক অ্যান্ড কি’, ‘ভ্যাম্পায়ার ডায়েরিস’। পড়া শুরু করেছেন ‘হিমু সমগ্র’।
এদিকে করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনয়শিল্পী। জানালেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যা যা করণীয়, সেই তথ্যগুলো তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে সবার সঙ্গে শেয়ার করছেন। পরিচিতজনেরাও যেন তেমনটাই করেন। ‘সবাই সবাইকে সচেতন করি, নিজে বাঁচি, অন্যদেরও বাঁচাই।’