মোদির দিকে তাকিয়ে সিকিমের বৈধ জুয়া ব্যবসায়ীরা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে তাকিয়ে সিকিমের জুয়া ব্যবসায়ীরা। কারণ, মোদি সময় দিলেই চালু হবে নবনির্মিত প্যাঙ্ক ইয়াং বিমানবন্দর। আর বিমানবন্দর চালু হলেই বাড়বে ক্যাসিনো বা বৈধ জুয়ার খদ্দের। এমনটাই আশা সিকিমের ক্যাসিনো মালিকদের। একই সঙ্গে সরকারও বাড়তি কর আদায়ের আশায় রয়েছে।
ভারতের একমাত্র সিকিমেই স্থলভূমিতে শুরু হয় ক্যাসিনো। তবে গোয়ায় মাঝসমুদ্রে এই জুয়া আগেও ছিল। প্রথম দিকে শুধু পাঁচ তারকা হোটেলেই চালু ছিল এই ব্যবসা। পরবর্তী সময়ে সেই নিয়মেও ছাড় মেলে।
অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে নেপালের মতো সিকিমেও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ক্যাসিনো। সঙ্গে অবশ্য নাইট ক্লাবও রয়েছে। ভালোই চলছিল বৈধ জুয়ার আসর।
সিকিম সরকার ২০১৬ সালে স্থানীয় লোকজনের জন্য ক্যাসিনো নিষিদ্ধ করে। বহিরাগত ব্যক্তিদের সমস্যা হলো সিকিমে কোনো বিমানবন্দর নেই। পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে পাঁচ ঘণ্টা লাগে রাজধানী গ্যাংটক পৌঁছাতে। পাহাড়ি রাস্তায় বর্ষাকালে রয়েছে হরেক ঝামেলাও।
রাজধানী গ্যাংটক থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে প্যাঙ্ক ইয়াং বিমানবন্দর তৈরি হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের তথ্যমন্ত্রী এ কে ঘাটানি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সময় দিলেই উদ্বোধন হবে বিমানবন্দরটির।
সিকিমের মহাযজ্ঞ ক্যাসিনোর জেনারেল ম্যানেজার শিরপা লেপচা সাংবাদিকদের বলেন, বিমানবন্দর চালু হলেই খদ্দের বাড়বে। বাড়বে রাজ্যের আয়ও। তাই তিনি দ্রুত বিমানবন্দর চালুর দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ৩ হাজার ৫০০ রুপি প্রবেশমূল্য নিই ক্যাসিনো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। এর মধ্যে সরকারি কর দিতে হয় এক হাজার রুপি। শুধু তা-ই নয়, ৭০০ রুপি দিতে হয় পণ্য পরিষেবা কর (জিএসটি)। আয়কর দিতে হয় ৩০ শতাংশ। পুরোটাই সরকারের লাভ।’
তবে গ্যাংটক থেকে মুঠোফোনে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমলেন্দু কুণ্ডু প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই পাহাড়ি রাজ্যে বর্ষার মৌসুমের প্রধানমন্ত্রী বোধ হয় আসবেন না। তাই মনে হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের পরেই চালু হবে বিমানবন্দর।’
অমলেন্দুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিকিমে বিমানবন্দরের পরিকাঠামো পুরো প্রস্তুত। এমনকি পরীক্ষামূলকভাবে বিমানও চালিয়েছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিমান সংস্থা স্পাইসজেট। সবই ঠিকঠাক আছে। তিনি স্বীকার করেন, প্যাঙ্ক ইয়াং বিমানবন্দর চালু হলে সিকিমের ক্যাসিনো ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠবে। সেই সঙ্গে বাড়বে রাজস্বও। একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, হিমালয়ের পাদদেশে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকৌশলীদের অনেক কষ্ট করে নির্মাণ করতে হয়েছে এই বিমানবন্দর।
অপেক্ষা শুধু মোদির সিকিম সফরের সময়সূচি। সেদিকেই তাকিয়ে বৈধ জুয়া ব্যবসায়ীরা।