ঘরের অশান্তিতে রাজনীতি ছাড়তে চান কলকাতার মেয়র?

একজন অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েন চরমে। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা পর্যন্ত চলছে। এককথায় জীবন এখন বিষময়। এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতি থেকেই বিদায় নিতে চাইছেন কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।
মেয়র, মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ ছেড়ে দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন শোভন।
শোভন চট্টোপাধ্যায় ২০১০ সাল থেকে মেয়র পদে। একাধারে তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য, বিধায়ক ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতিও।
সূত্রমতে, দলীয় সব পদ, মন্ত্রিত্ব ও মেয়রের পদ ছেড়ে দেওয়ার আবেদন নিয়ে গত বুধবার বিকেলে তিনি হাজির হয়েছিলেন রাজ্য সচিবালয় নবান্নে। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিটি মুখ্যমন্ত্রীর সচিব গৌতম সান্যালের কাছে পৌঁছে দেন। এর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ঘরে ডেকে নেন মেয়র শোভনকে।
শোভন চট্টোপাধ্যায় মমতাকে বলেন, তিনি আর রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে চান না। বিদায় জানাতে চান রাজনীতিকে। ছাড়তে চান মেয়র, মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় নেতৃত্বের পদ। মমতা শোভনকে তাঁর ডাক নাম কানন বলেই ডাকেন। শোভন তাঁর চিঠির নিচে লেখেন ইতি, কানন।
মমতা শোভনকে দল ও পদ না ছাড়ার অনুরোধ করলেও তিনি তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে মমতা নিজের গাড়িতে চাপিয়ে শোভনকে নিয়ে সন্ধ্যায় যান তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে। সেখানে গিয়ে দুজনে একান্তে বৈঠক করেন। এরপর শোভন কালীঘাটের বাড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া তাঁরই চিঠিটি হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসেন।
কেন শোভনের এত রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান? জানা গেছে, মূল সমস্যা ছিল মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কে ফাটল। এই ফাটলের জেরে মেয়র শোভন নিজেই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর মামলা করেছেন কলকাতার আলীপুর দায়রা আদালতে। সেই মামলা এখনো চলছে। মেয়র শোভন (৫৪) সম্প্রতি কলকাতার এক অধ্যাপকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে খবর রটেছে। এ ঘটনা নিয়ে মেয়রের পারিবারিক সমস্যা প্রকট। মেয়রও নিজের বেহালার বাসভবন ছেড়ে কলকাতার গড়িয়াহাটের একটি আবাসনে ভাড়ায় থাকতে শুরু করেন।
এসব কথা মমতার কানে পৌঁছে যায়। মমতাও বারবার মেয়রকে এ ব্যাপার নিয়ে এগোতে নিষেধ করলেও সায় দেননি তিনি। গত সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মমতা মেয়র শোভনকে ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘কাজ তো কিছুই করছ না!’ এতে কষ্ট পান শোভন। সিদ্ধান্ত নেন রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর বরাবরে লেখা একটি চিঠি নিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় নবান্নে। ওই চিঠিতে মেয়র শোভন ওই অধ্যাপকের সঙ্গে সম্পর্কের জের টেনে লেখেন, ‘মরে গেলেও তিনি সেই সম্পর্কের বাঁধন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। উপকারী বন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করতে পারবেন না।’