তেলেঙ্গানা বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলো

চন্দ্রশেখর রাও
চন্দ্রশেখর রাও

প্রত্যাশামতো তেলেঙ্গানা বিধানসভা ভেঙে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল ই এস এল নরসিংহমের সঙ্গে দেখা করে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর সুপারিশ, বছর শেষে রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড় ও মিজোরামের সঙ্গে তেলেঙ্গানা বিধানসভার ভোট করা হোক। চন্দ্রশেখর রাওয়ের সুপারিশ রাজ্যপাল গ্রহণ করেছেন। ভোট হওয়া পর্যন্ত চন্দ্রশেখর রাও থাকবেন কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী।

তেলেঙ্গানা বিধানসভার মেয়াদ আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত। কিন্তু আগেই বিধানসভা ভেঙে বছর শেষে ভোটে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কদিন ধরেই রাজনৈতিক জল্পনায় উঠে এসেছিল। শোনা যাচ্ছিল, ২ সেপ্টেম্বর তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের দিনই মুখ্যমন্ত্রী সেই ঘোষণা করবেন। ওই দিন বিরাট জনসভা করলেও চন্দ্রশেখর রাও তা ঘোষণা করেননি। তবে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণা করলেন। চন্দ্রশেখর মনে করেন, ৬ সংখ্যাটি তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এবং পয়া।

বিধানসভা ভেঙে আগেভাগে ভোটে যাওয়ার কারণ দুটি। নির্দিষ্ট সময়ে এপ্রিল-মে মাসে ভোট হলে বিধানসভা ও লোকসভার ভোট একসঙ্গে করতে হতো। চন্দ্রশেখর রাও মনে করছেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর দলের ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে যেহেতু লোকসভার ভোটে এবার নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপির অবস্থা আগেরবারের তুলনায় যথেষ্ট খারাপ। ফলে রাজ্য ভোটে জাতীয় বিষয়গুলির উঠে আসার সম্ভাবনা থেকে যাবে। মোদির বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটবে। আগে ভোট হলে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয় কারণ কংগ্রেসের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা। রাজ্যের তেলুগুভাষী অঞ্চলে কংগ্রেস ইদানীং কিছুটা শক্তি বাড়িয়েছে। তা ছাড়া, টিআরএস-এর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) সঙ্গে কংগ্রেস জোট করার দিকে অনেকটা এগিয়েছে। ডিসেম্বরে ভোট হয়ে গেলে প্রতিপক্ষ বিশেষ সুবিধা পাবে না।
চন্দ্রশেখর রাও কিছুদিন আগেও মোদি-বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু গত দুই মাসে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে জোট না বাঁধলেও ভোটের পর কেন্দ্রে বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনার কথা টিআরএস থেকে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

তেলেঙ্গানা বিধানসভার মোট আসনসংখ্যা ১১৯। গত ভোটে টিআরএস পেয়েছিল ৯০ আসন। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কংগ্রেস। ১৩ আসন। বিজেপি পেয়েছিল ৫টি ও তেলুগু দেশম ৩টি আসন। সরকার গড়তে দরকার ৬০ আসন।