'সেতু' রাজনীতিতে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ

উড়াল সেতু ধস নিয়ে এখন সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। চলছে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার মাঝেরহাটের সেতু ভেঙে তিনজনের মৃত্যুর পর শুরু নতুন এই বিতর্ক।
রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে এই সেতুতো সিপিএমের আমলে তৈরি। অথচ এই সেতু নির্মিত হয়েছিল কংগ্রেসের আমলে সেই ১৯৬৪ সালে। ফলে তৃণমূল এখন এই সেতু ভেঙে পড়ার দায় নিজেদের কাঁধে না নিয়ে দোষ চাপাতে চাইছে বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেসের ওপর। আর তা-ই নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছে, কলকাতার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, এই জরাজীর্ণ মাঝেরহাট সেতুর কেন সংস্কার করা হলো না? গত দেড় বছরে ছয় বার এই সেতু সংস্কারের দরপত্র আহ্বান করেও কেন কাজ হলো না? এর জন্য দায়ী কি বিরোধী দল?
এদিকে এই বিতর্কের মাঝে আজ শুক্রবার সকালে ফের একটি সেতু ভেঙে পড়েছে শিলিগুড়িতে। আজ সকালে একটি ট্রাক সেতুতে উঠতে গেলে ভেঙে পড়ে ওই সেতু। তবে ৩ জন আহত হলেও এ দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তৃণমূল এখানেও দাবি তুলেছে এই সেতু ভেঙে পড়ার দায় বিরোধী দলের, সিপিএমের। কারণ তাদের আমলেই নির্মিত হয়েছিল এই সেতু।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝেরহাটের সেতু ভেঙে পড়ার পর সেতু ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোন কোন সেতু দুর্বল তার তালিকা তৈরি করার। তিনি নিজেই গতকাল তথ্য দিয়েছেন কলকাতা ও আশপাশের ২০টি সেতুর আয়ু শেষ। এবার সেই সেতুর মেরামত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এই লক্ষ্যে তিনি চাইছেন সেতুর নিচে যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন তাদের সরিয়ে দিতে। মমতা বলছেন, ‘শিয়ালদহ উড়াল পুলের নিচে বহু মানুষ দোকান করে ব্যবসা করছেন। পুনর্বাসনের কথা বললেও তাঁরা জায়গা ফাঁকা করছেন না। ফলে শিয়ালদহের উড়াল পুলের সংস্কারের কাজ করা যাচ্ছে না’।
এরপরেই এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ‘উড়াল পুলের নিচে যাঁরা থাকেন তাঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাইতো আমরা এই রাজ্যে এনআরসি চালু করার দাবি করেছি।’
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেতু বা উড়াল পুলের ওপর দিয়ে ১০ বা ২০ চাকার ট্রাক চলতে দেওয়া হবে না। মমতার এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বড় ট্রাক শহরে না এলে এই রাজ্যে খাদ্যশস্য বা পণ্যসামগ্রী আসা যাওয়ার পথ বন্ধ হলে খাদ্য সংকটসহ আরও নানা সমস্যায় পড়বে এই রাজ্যের মানুষ। বাড়বে দ্রব্য মূল্য, বাড়বে অভাব।’
গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার মাঝেরহাটের ওই সেতু ভেঙে পড়ে। সর্বশেষ তথ্যমতে এই দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। মাঝেরহাটের এই সেতুটি তৈরি হয় ১৯৬৪ সালে। ৪৫০ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গের গণপূর্ত বিভাগের। ছয় মাস আগে সেতুটি পরীক্ষা করে পূর্ত দপ্তর ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়েছিল।
মাঝেরহাটের এটি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে কলকাতায় তিনটি এবং শিলিগুড়িতে একটি উড়ালসেতু ভেঙে পড়ে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের আগে কলকাতার বড় বাজার এলাকায় পোস্তায় বিবেকানন্দ উড়ালসেতু ভেঙে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।