পশ্চিমবঙ্গে 'অনুপ্রবেশকে' প্রধান ইস্যু করছে বিজেপি

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ‘অনুপ্রবেশকে’ প্রধান ইস্যু করেছে বিজেপি। আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) চালুর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। তারা বলছে, এনআরসি শরণার্থী ও উদ্বাস্তুদের বিপদ ডেকে আনবে না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্বাস্তু তাড়াবে না বিজেপি। তাদের নাগরিকত্ব দেবে। অধিকার দেবে। তাদের লক্ষ্য অনুপ্রবেশকারী। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যেসব মুসলিম অনুপ্রবেশকারী এসেছে, তাদের চিহ্নিত করে তাড়ানোই হবে মূল লক্ষ্য।

গত শনিবার এক বৈঠকের পর বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেছেন, আগামী ১৫ দিন রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে উদ্বাস্তু, শরণার্থী আর অনুপ্রবেশকারী নিয়ে প্রচার চালানো হবে।

বিজয়বর্গীয় বলেছেন, এ রাজ্যে এখন রয়েছে এক কোটি অনুপ্রবেশকারী। তাদের চিহ্নিত করতে এ রাজ্যেও এনআরসি চালু করতে হবে। রাজ্যের ১০০ দিনের কাজ, গৃহঋণ, গ্যাসের ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছে রাজ্যে আশ্রয় নেওয়া অনুপ্রবেশকারীরা। তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

বিজেপির রাজ্য কমিটি বিভিন্ন তথ্য নিয়ে বের করেছে একটি পুস্তিকা। তা এখন বিতরণ করা হচ্ছে। বিজেপির লক্ষ্য আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে হিন্দু ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে আনা।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিল মাসে হওয়ার কথা। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের রয়েছে ৪২টি আসন।

বিজেপি বলছে, রাজ্যে তৃণমূল এখন তাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।

তৃণমূল প্রচার করছে—বিজেপিকে ভোট দিলে আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দু অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের তাড়াবে বিজেপি। তাই বিজেপির টোপে যেন কেউ সাড়া না দেয়।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম ইস্যু হচ্ছে অনুপ্রবেশ। কারণ, তৃণমূল যেভাবে এনআরসি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, তার জবাব দিতে এবার মাঠে থাকবেন বিজেপির কর্মীরা।