ওভেনে সাপ!

ওভেনের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া সাপ আফ্রিকান ব্রাউন। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
ওভেনের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া সাপ আফ্রিকান ব্রাউন। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

চিপস তৈরি জন্য ওভেন খুললেন তিনি, খুলেই ভয়ে রক্ত হিম হওয়ার জোগাড় ওই নারীর (৮২)! ভেতরে তিন ফুট লম্বা জ্যান্ত সাপ! ঘটনার সময় পাশেই ছিলেন তাঁর স্বামী। স্ত্রীকে সামলে নিয়ে বন্য প্রাণী নিয়ে কাজ করে, এমন এক সংগঠনকে বিষয়টি জানালেন তিনি। তারা এসে সাপটি নিয়ে যায়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের স্টোকপোর্ট শহরে এই ঘটনা ঘটে। দেশটির বন্য প্রাণী রক্ষণাবেক্ষণকারী দাতব্য সংগঠন রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুলিটি টু অ্যানিমেলসে (আরএসপিসিএ) আরএসপিসিএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি ওই সাপ উদ্ধারের একটি ভিডিও চিত্রও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে।

আরএসপিসিএর পরিদর্শক অ্যান্ডি হ্যারিস উদ্ধার হওয়া ওই সাপটির পরিচয় ‘আফ্রিকান ব্রাউন’ বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বিষ এই সাপটি যুক্তরাজ্যে সাধারণত পোষা হয়। তাঁর ধারণা, সাপটি তার মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছে অথবা মালিক সাপটিকে ফেলে দিয়েছে।

অ্যান্ডি হ্যারিস বলেন, তাঁরা সাপটি উদ্ধারের সময় ওভেনের পেছনের দেয়ালে একটি গর্ত দেখতে পেয়েছেন। তাঁর ধারণা, ওই ফুটো দিয়েই সাপটি একটু উষ্ণতার স্বাদ নিতে ওভেনের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। অ্যান্ডির বক্তব্য, সাপটির ভাগ্য ভালো। কারণ ওই নারী ওভেনের দরজা খোলার আগে প্রিহিট দেননি। অ্যান্ডি আফ্রিকান ব্রাউনের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এরা সাধারণত ইঁদুর, টিকটিকি ও পাখি খেয়ে থাকে।

বিবিসি ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৃদ্ধ দম্পতি নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে ওই নারী ভয়ংকর এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বিবিসিকে বলেন, ‘এটা আমার জীবনে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। আমার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। তবে অবস্থা বেগতিক হওয়ার আগেই আমার স্বামী বিষয়টি টের পেয়ে যান।’ ওই বৃদ্ধা আরও বলেন, তিনি মাত্র কয়েক দিন আগেই চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করান। প্রথম দেখাতে তিনি সাপটিকে দৃষ্টিভ্রম হিসেবেই ভেবেছেন। তাঁর ধারণা হয়েছিল, চোখ তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করছে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ স্বামী সেই ভুল ভাঙান।

অ্যান্ডির বরাত দিয়ে এনডিটিভি বলছে, উদ্ধারের পর সাপটির একটি ডাক নাম দেওয়া হয়। আর তা হলো সামি। অ্যান্ডি জানিয়েছেন, সামি বর্তমানে সংস্থাটির সরীসৃপ প্রাণী শাখার একজন পরিচর্যাকারীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।