ইউক্রেনের ৩ জাহাজ আটক রাশিয়ার

ক্রিমিয়ার সমুদ্রসীমায় ইউক্রেনের তিনটি যুদ্ধজাহাজ (দুটি গানবোট ও একটি টাগবোট) আটকেছে রাশিয়া। আটক করার সময় গুলি ছোড়া হয়। এতে ইউক্রেনের জাহাজের কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির জন্য দুই দেশ পরস্পরকে দায়ী করছে।
গতকাল রোববার মস্কোর স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে ইউক্রেনের তিনটি জাহাজ ক্রিমিয়ার সমুদ্রসীমায় ঢুকে পড়ার পর এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাশিয়ার দাবি, এর মাধ্যমে সমুদ্রসীমাসংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশনের ১৯ ও ২২ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়ার সীমান্তরক্ষীরা ক্রিমিয়া সীমান্তে তাদের জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা প্রকাশ্য আগ্রাসী তৎপরতা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো বলেছেন, এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি পার্লামেন্টে আজ সোমবার সামরিক আইন জারির ঘোষণার জন্য আহ্বান জানাবেন।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল ইউক্রেনের বারদিযানস্ক ও নিকোপল যুদ্ধজাহাজ এবং দ্য ইয়ানা কাপা জাহাজ কৃষ্ণ সাগরের ওডিসি বন্দর থেকে রওনা হয় আজভ সাগরের মারিওপোল বন্দরের উদ্দেশে।
ইউক্রেন বলছে, রাশিয়া জাহাজের পথ আটকাতে চেষ্টা করে, যদিও এরপর নৌযানগুলো কেরচ স্ট্রেইটের উদ্দেশে যেতে শুরু করে, তবে সেখানে রাশিয়ার ট্যাংকার থাকায় বাধাপ্রাপ্ত হয়।
রাশিয়া ওই এলাকায় দুটো যুদ্ধবিমান এবং দুটো হেলিকপ্টার ডেকে আনে। তাদের অভিযোগ, নৌযানগুলা অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং ওই পথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে নিরাপত্তার কারণে।
ইউক্রেনের নৌবাহিনীর সদস্যরা জানান, জাহাজ হামলা মুখে পড়লে তাঁরা ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তাঁদের ছয়জন নাবিক আহত হন বলেও জানানো হয়।
পরে রাশিয়ার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, তাঁদের একটি টহল জাহাজ ইউক্রেনের তিনটি জাহাজকে জোর করে জব্দ করে। তবে তাঁদের দাবি, কেবল তিনজন নাবিক আহত হয়েছেন।
আজভ সাগরের কেরচ প্রণালিতে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করেছে কেরচ স্ট্রেইট সেতু। ওই সেতুর নিচ দিয়ে দেশ দুটি আজভ সাগরে প্রবেশ করতে পারে। গত মাস থেকে ওই প্রবেশপথ ট্যাংকার দিয়ে আটকে রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ‘অবাঞ্ছিত ও পাগলের’ কাজ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের জন্য রাশিয়া অনুরোধ করেছে।
আসলে কয়েক মাস ধরেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। ২০০৩ সালে চুক্তি অনুসারে মস্কো ও কিয়েভ কেরচ স্ট্রেইট ও আজভ সাগরের আঞ্চলিক পানি ভাগাভাগি করবে। তবে চলতি বছরের প্রথম দিকে ক্রিমিয়ার কাছ থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার দুটি জাহাজ আটক করলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা মারাত্মক আকার ধারণ করে। মস্কো এ ঘটনাকে ‘সমুদ্র–সন্ত্রাস’ বলে আখ্যায়িত করে এবং আজভ সাগরে রুশ সেনা টহল বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রাশিয়ার এ পদক্ষেপকে অবৈধ বলে মন্তব্য করে ইউক্রেন। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফাই গেয়ে বলেছেন, ‘আমরা আগে শুরু করিনি।’