হাওড়ায় ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রন্তিদেব সেনগুপ্ত এবং সুমিত্র অধিকারীর।
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রন্তিদেব সেনগুপ্ত এবং সুমিত্র অধিকারীর।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এবার পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া আসনে হবে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা। তৃণমূলের হয়ে লড়বেন প্রখ্যাত ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপির টিকিটে লড়বেন সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত। এ ছাড়া এই আসনে বামফ্রন্টের হয়ে লড়ছেন সুমিত্র অধিকারী, তিনি রাজনীতিবিদ এবং কংগ্রেসের হয়ে শুভ্রা ঘোষ।

অবশ্য সবার দৃষ্টি ফুটবলার বিপরীতে সাংবাদিকের লড়াইয়ের দিকেই।

২০১৪ সালের নির্বাচনেও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়েছেন এই হাওড়া আসনে। প্রসূন একজন নামী ফুটবলার হিসেবে পরিচিত পুরো দেশে। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। খেলেছেন মোহনবাগান আর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। নাম উঠেছে লিমকা বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। ১৯৭৯ সালে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান অর্জুন পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের প্রথম সাংসদ, যিনি ফুটবলার হিসেবে লোকসভায় জায়গা করে নেন।

অন্যদিকে বিজেপির টিকিটে সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত এবারই প্রথম নেমেছেন ভোটযুদ্ধে। প্রবীণ এই সাংবাদিক রন্তিদেব দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত আরএসএসএসের সঙ্গে।

তৃতীয় প্রার্থী রয়েছেন সিপিএমের সুমিত্র অধিকারী। তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। আর চতুর্থ প্রার্থী রয়েছেন কংগ্রেসের শুভ্রা ঘোষ। তিনি মূলত গৃহবধূ। কংগ্রেস কর্মী। এবারই তিনি নেমেছেন ভোটযুদ্ধে।

গত নির্বাচনে প্রসূন পেয়েছিলেন ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএমের শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। পেয়েছিলেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৫০ ভোট। আর বিজেপির তারকা প্রার্থী জর্জ বেকার পেয়েছিলেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ১২০ ভোট এবং কংগ্রেসের মনোজ কুমার পাণ্ডে পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার ২৫৪ ভোট।

সেই ভোটের অঙ্ক দেখে এবার জয়ের জন্য নিশ্চিত হয়েছেন প্রসূন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জোয়ারে এবার সব ভেসে যাবে। তিনি জিতছেনই। মানুষ এখন দিদি ছাড়া অন্য কিছু ভাবেন না।

তবে সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্তও ছাড়ার পাত্র নন। তিনি বলেছেন, এ রাজ্যের মানুষ তো দেখেছে তৃণমূলের শাসন, শোষণ, গণতন্ত্র হরণ আর তাদের ভোট ডাকাতির ছবি। এবার মানুষ বদলে গেছে। মানুষ ঝুঁকছে বিজেপির দিকে। তাই তিনি জিতবেন এ আশা করছেন।

সিপিএম প্রার্থী সুমিত্র অধিকারীর অঙ্কটা একটু ভিন্ন ধরনের। তিনি বলছেন, গত নির্বাচনে তাঁদের দল দ্বিতীয় হয়েছিল। এবার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হয়েছে। এই রাজ্যের মানুষ আর চাচ্ছে না তৃণমূল এবং বিজেপিকে। দুই দলই সাম্প্রদায়িক। তাই তাঁদের জয়ের সম্ভাবনা থাকছেই। মানুষ এবার ঝুঁকছে ফের সেই বামফ্রন্টের দিকে। কারণ তাঁরা জানেন, রাজ্যের কল্যাণে এখনো নিবেদিত বামফ্রন্ট। অসাম্প্রদায়িক আদর্শ ও চিন্তাচেতনাকে তুলে ধরে রেখেছে এই বামফ্রন্টই।