নাগরিকত্ব আইন সংশোধন হবেই: মোদি

শিলচরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
শিলচরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হবে। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিষ্টান, পারসি ও জৈন শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি। আজ বৃহস্পতিবার আসামে ভোটের প্রচারে এসে এ ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (ক্যাব) ওপর বিশেষ গুরুত্ব আগেই দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের দিন প্রচারে এসে ফের তাতেই গুরুত্ব দিলেন মোদি। এদিন আসামের মঙ্গলদৈ ও শিলচর—এই দুই জায়গায় নির্বাচনী জনসভা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। দুই জায়গাতেই কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মোদি।

অসমিয়া-অধ্যুষিত মঙ্গলদৈতে মোদির অভিযোগ, কংগ্রেসই অনুপ্রবেশকারীদের মদদ দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের কারণেই আসামে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের সংখ্যা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি এদিন বাঙালি-অধ্যুষিত শিলচরে মোদি সাফ জানান, বিজেপির সরকার গঠিত হলে ক্যাব পাস করানো হবে। কিন্তু সেই ক্যাবে অসমিয়াদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।

২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে শিলচরে মোদি বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আসামের ডিটেনশন ক্যাম্প (বিদেশিদের জন্য বন্দিশালা) গুঁড়িয়ে দেবেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে একটি বন্দিশালাও বন্ধ হয়নি। বরং আরও একটি বন্দিশালা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার।

অবশ্য বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে কোনো কথাই ছিল না। এমনকি বহুল চর্চিত এনআরসি (নাগরিক পঞ্জি) নিয়েও মোদি কিছুই বলেননি। এখন এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কংগ্রেস মোদিকে ফের ‘মিথ্যাবাদী’ বলে অভিযোগ তুলেছে। অন্যান্য অরাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শিলচরের কংগ্রেস নেতা পার্থ রঞ্জন চক্রবর্তী মোবাইলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (মোদি) প্রধানমন্ত্রী পদেরই অযোগ্য। তাঁর কোনো কথার দাম নেই, শুধু মিথ্যে কথা। মানুষ এবার তাঁর আসল চেহারা চিনে নিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় আসামের ৫টি আসনে ভোট হয়। বাকি ৯টি আসনের মধ্যে ৫টিতে ভোট আগামী ১৮ এপ্রিল। ২৩ এপ্রিল ভোট হবে বাকি ৪টি আসনের।