কুমিল্লায় সড়কে আইন মানতে চান না কেউই

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে নতুন কার্যকর হওয়া সড়ক আইন-২০১৯ পাস হলেও সড়কে শৃঙ্খলা খুব একটা ফেরেনি। কুমিল্লা মহানগরীর শাসনগাছা, কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। ১৮ ডিসেম্বর কয়েক ঘণ্টা এই স্থানে থেকে দেখা গেছে, বাসচালক, অটোরিকশার চালক, যাত্রী, মোটরসাইকেলের চালক কেউ আইন বা নিয়ম মানতে চান না। নিয়মের তোয়াক্কা না করে আগে যাওয়ার মানসিকতাও লক্ষ করা গেছে সবার মধ্য।
নতুন সড়ক আইন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও মোটরসাইকেলের অধিকাংশ চালকই হেলমেট ব্যবহার করছেন না। যাঁদের সঙ্গে হেলমেট আছে, তারাও অনেকেই সেটি ব্যবহার না করে পেছনে ঝুলিয়ে রাখছেন।
প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় (১৮ ডিসেম্বর) দেখা গেছে, নতুন পার্কিং আইন না মেনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরাও যত্রতত্র পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করছেন। এর ফলে জ্যাম লেগে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

আবুল হাশেম নামের এক ব্যক্তি কুমিল্লা থেকে চান্দিনা যাচ্ছিলেন। তিনি বাসের জন্য শাসনগাছা এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কথা হলো তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি অনেকক্ষণ ধরে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছি। একটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা আমাকে ধাক্কাও দিয়েছে। পায়ের আঙুলে ব্যথা পেয়েছি। নতুন আইন হলেও কেউই সেটা মানছেন না।’
কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা এলাকার বাসস্ট্যান্ডের অবস্থা আরও শোচনীয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানেও বাসচালকেরা সড়কের ওপরে বাস ঘোরাচ্ছিলেন, পেছনে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত জ্যাম। কথা হয় এখানকার কবির হোসেন নামের ঢাকা অভিমুখী এশিয়া লাইনের একজন বাসচালকের সঙ্গে। কেন সড়কের ওপরেই বাস ঘোরাচ্ছেন? কথা শুনে একটু অবাকই হলেন। এরপর তিনি বললেন, ‘আমাদের স্ট্যান্ডে জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়েই সড়কে ঘোরাচ্ছি।’

ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়াতে সড়কের ওপর দিয়েই হাঁটছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। ফুটপাতগুলো দখল করে হকাররা জামা, জুতাসহ, ফলমূলের দোকান বসিয়েছেন। এর ফলে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুয়া বলেন, ‘ফুটপাতে আমরা অনেকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু আমাদের লোকবলের অভাবে নিয়মিত অভিযান চালাতে পারছি না। এ ছাড়া মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে পারি না।’ তবে, ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য রাজনৈতিক কারও ইন্ধন আছে কি না? এই উত্তর জানেন না বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।