বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের বর্ষবরণ

বৃহত্তর ওয়াশিংটনের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির শিক্ষামূলক সংগঠন বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল উদ্যাপন করেছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫। গ্রাম বাংলার চিরন্তন রূপ আর লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর ওয়াশিংটনের মাটিতে সৃষ্টি হল এক অনন্য উদাহরণ।
সাংবাদিক রোকেয়া হায়দারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গত ২৮ এপ্রিল ম্যাশন ডিস্ট্রিক্ট পার্কে শুরু হয় বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের বর্ষবরণ উৎসব। বৃহত্তর ওয়াশিংটনের প্রায় ৫০ জন শিল্পীর সমন্বয়ে পরিবেশিত গান ‘আনন্দলোকে’ গানের সঙ্গে দুই প্রজন্মের শিল্পী মরিয়ম ইসলাম ও প্রিয়াংকা বোসের নাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলার চিরন্তন লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এরপরই ‘এসো হে বৈশাখ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নায়লা, অতশী, শুসান, অহনা, অনিতা, নাইমা, অবন্তিকা, রানিতা ও তাসনুভা। এরপর ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে প্রিয়াংকা বোস।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল ছোটদের পরিবেশনা। বাংলা স্কুলের শিক্ষক শামীম চৌধুরী ও শতরূপা বড়ুয়ার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বৃহত্তর ওয়াশিংটনের খুদে শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করে—আজি এ ভোরে, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, বাউলা কে বানাইল রে, জন্মিলে মরিতে হয়, মিলন হবে কত দিনে, জালাইয়া গেলা মনের আগুন, মঙ্গল হোক, পাহারী মন, বাজে বংশী, মিষ্টি সবুজ মাঠ, চল চল সখী, পাহারী সাপের খেলা, বাউলের একতারা, ঢুলি বাজায় ঢোল ও বাংলাদেশের একতারা।
এই পর্বে অংশ নেয় সুমিত, ফারিয়াল, আরিয়া, এলেনা, লিয়ানা, আয়ান, লাইবা, রিদি, অহনা, দিব্য, পরাগ, অঙ্কিতা, নোরা, অবন্তি, অহনা, অনিতা, বিজন, সৃজন, কৌশিক, সুষ্ময়, রিদিতা, মুহিত, অপসরা, ফারজান, স্বপ্নিল, তাসনুভা, অতশি, শুসান, প্রভা, ওয়াদিয়া, ও শ্রেয়শী প্রমুখ।

ছোটদের পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের সভাপতি আতিয়া মাহজাবিন। এ সময় মঞ্চে স্বাগত জানানো হয় বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের শুভাকাঙ্ক্ষী ভাষা সৈনিক মাজহারুল ইসলামকে। শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর মাজহারুল ইসলাম বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য পঞ্চাশ হাজার ডলারের চেক দেন।
এরপর কবিতা নিয়ে মঞ্চে আসে অদিতি, সিলিকা ও দীপু। আবৃত্তির পর শুরু হয় শতবর্ষের লোকজ সংস্কৃতির পরিবেশনা। দেশ বন্দনা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই পর্বে বৃহত্তর ওয়াশিংটনের প্রায় ৫০ জন শিল্পী কলাকুশলী কালিকা প্রসাদ বন্দনা, লালন ফকিরের ধন্য ধন্য, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গ্রামের নওজোয়ান, কোন মিস্ত্রি ও তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো, শীতলং শাহের সোয়া উরিল, হাসান রাজার নেশা লাগিল রে, পুঁথি পাঠ, ভাটিয়ালি গান কই যাও রে পদ্মার ঢেউ, মমতাজ আলী খানের এই যে দুনিয়া, রাধা রমনের জলে গিয়াছিলাম সই ইত্যাদি গান পরিবেশন করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা শতবর্ষের লোকজ সংস্কৃতির এই পরিবেশনা দর্শকদের দের মুগ্ধ করে।
এরপরই শুরু হয় মিছিল। মারো জোরে হেইয়া, জোরসে বল হেইয়া, বলরে বল হেইয়া, সবাই বল হেইয়া ইত্যাদি স্লোগানে স্লোগানে অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। দিনভর বৃহত্তর ওয়াশিংটন প্রবাসী বাংলাদেশিরা নানা রঙের পোশাকে নানা ঢঙে অনুষ্ঠানে সময় কাটান। ঘুরে দেখেন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন স্টল। কেনাকাটা করেন, দেশি খাবারের স্বাদ নেন। সবশেষে বৃহত্তর ওয়াশিংটনের ব্যান্ড দল আরিচা ঘাট, শ্যাডো ড্রিম ও জটিল সংগীত পরিবেশন করে।