বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখানো হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬ কোটি ৬ লাখ ২৬ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবস্থার গ্রাহক হয়েছেন। এ ব্যবস্থায় এপ্রিল মাসে গড়ে দৈনিক ১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ছয়-সাত বছরে এ দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি অর্থ লেনদেনে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছেন। আর্থিক খাতের পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এমএফএসের এই দ্রুত বিকাশ গোটা বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
শুধু জাতীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নয়, বৈশ্বিক উন্নয়নের দিক থেকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ, প্রথাগত ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংক যেকোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক লেনদেনব্যবস্থার মধ্যে সব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেটাকে বলা হচ্ছে ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসিভনেস। আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির অভাবকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। সহজ কথায়, ব্যাংকের গ্রাহক হওয়া বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মালিক হওয়ার মধ্য দিয়ে কোনো ব্যক্তি আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারেন।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পুঁজি হলো প্রাথমিক প্রয়োজন; আর পুঁজি সংগ্রহ করার একটা পথ ঋণ নেওয়া। কিন্তু কোনো ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে তিনি ঋণ পান না। ফলে আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার বাইরে থেকে যাওয়া মানুষেরা মহাজনি সুদপ্রথাসহ নানা রকমের অনানুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকেন। এটা একদিকে অস্বচ্ছ ব্যবস্থা, যা রাষ্ট্রকে তার প্রাপ্য কর থেকে বঞ্চিত করে, অন্যদিকে ঋণগ্রহীতা উচ্চ হারে সুদ প্রদানসহ নানা অন্যায্য আচরণের শিকার হতে পারেন। তা ছাড়া হুন্ডি পদ্ধতিতে টাকা লেনদেন করতে গিয়ে নানা রকমের অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করা হয়, যা দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থা ও জাতীয় উন্নয়নের পক্ষে সহায়ক নয়।
তবে এ দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিং সার্ভিস এখনো প্রথাগত ব্যাংকিংব্যবস্থা হয়ে ওঠেনি। এটি এখনো মূল অর্থ লেনদেনব্যবস্থায় সীমিত রয়েছে। এ ব্যবস্থা আরও ফলপ্রসূ করার জন্য একে ব্যাংকিংব্যবস্থায় উন্নীত করা যেতে পারে, যা করে এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া এমএফএসের আরও প্রসার ঘটানো প্রয়োজন কেননা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের হিসাবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে এখনো ৫ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছেন।