মুজিব বর্ষে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নানা ধরনের অভিনব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এর মধ্যে কিছু কর্মসূচি একান্ত আত্মপ্রচার কিংবা গোষ্ঠীস্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিভাত হচ্ছে। আনন্দের কথা, এর মধ্যেই কিছু উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই মুজিব বর্ষের চেতনার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে এবং তা সামাজিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে।
তেমনই একটি মহান কর্মসূচি দেখা গেল রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। সেখানে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে একটি গ্রামের অর্ধশতাধিক বাসিন্দা বসতবাড়িতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারমুক্ত সবজি চাষ শুরু করেছেন। কালীদীঘি নামের গ্রামটি ইতিমধ্যেই ‘নিরাপদ সবজির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের উৎপাদিত সবজি নিজেরা খাচ্ছেন এবং উদ্বৃত্তগুলো বিক্রি করছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে গ্রামটিকে এভাবে গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপীড়িত শুষ্ক মাটির এ গ্রামে বড় কোনো গাছপালা নেই। এখানে ফসল ফলানোই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে মুজিব বর্ষে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকে শফিকুল ইসলাম এ গ্রামের কৃষকদের বাড়ির আনাচকানাচে নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এখানে কেউ কোনো কীটনাশক ব্যবহার করছেন না। পোকা দমনে শুধু জৈব বালাইনাশক, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ স্টিকি ফাঁদ ব্যবহার করছেন। গত আড়াই থেকে তিন মাসে এ উদ্যোগ অনেকটা সফল হয়েছে।
উদ্যোগটির পরিসর অত্যন্ত ছোট, কিন্তু চেতনাগত দিক থেকে এর তাৎপর্য অনেক বেশি। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে ঠিকমতো বোঝাতে পারলে তাঁরা যে মহৎ কোনো কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়েছে। এর বড় প্রমাণ হলো নিরাপদ সবজির গ্রামের ধারণা বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি। শফিকুল ইসলাম ও তাঁর সহকর্মীদের সদিচ্ছাই এ ক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে। আরও আশার কথা, এ গ্রামের মানুষের দেখাদেখি অন্য গ্রামের লোকজনও এটি অনুসরণ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
রাসায়নিক–বর্জিত খাদ্যের প্রসারে পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বিশ্বব্যাপী সোচ্চার হচ্ছেন। সেই আন্দোলনে গোদাগাড়ীর কালীদীঘি গ্রামটির এসব মানুষও ভূমিকা রাখছে। এ বড় আনন্দের কথা।